জীবন ইসলাম : সরকার রুগ্ণ শিল্পের উদ্যোক্তাদের কথা বিবেচনায় নিয়ে তৈরি পোশাক খাতের ২৭০টি রুগ্ণ শিল্প পুনর্বাসনে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোকে প্রায় ৮৯৩ কোটি টাকা সুদ মওকুফ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানায়।
বিজিএমইএ কর্তৃক তৈরি পোশাক খাতের রুগ্ণ শিল্পের একটি তালিকা তৈরি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ওই তালিকা যাচাই-বাছাই করে গত ডিসেম্বর (২০০৯) মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। অর্থ মন্ত্রণালয় তা যাচাই-বাছাই করে ২৭০টি রুগ্ণ শিল্পের সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত গত সপ্তাহে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। চলতি সপ্তাহে এ ব্যাপারে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।
পোশাক খাতের রুগ্ণ শিল্পের মালিকদের আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে সুদ মওকুফের আবেদন করতে হবে। সেই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বর (২০১০) মাসের মধ্যে আসল টাকা পরিশোধ করার লড়্গ্যে চেকে তা উলেস্নখ করে আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে। অন্যথায় ওই আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।
পোশাক খাতের রুগ্ণ শিল্পের বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের ৫১৯ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংকের ৭১ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ২৪১ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকের ৬১ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন ব্যাংকের ৫৬ লাখ টাকাসহ মোট ৮৯২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা সুদ
মওকুফ করতে হবে।
এদিকে দেশে বর্তমানে সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানসহ বেসরকারি খাতের গার্মেন্টস, ডায়িং, পেপার মিল, নিটওয়ার, এক্সেসরিজ, উইভিং ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজসহ বিভিন্ন ধরনের ৩ হাজার ৩০০টি রুগ্ণ শিল্প রযেছে। এসব শিল্পের বিপরীতে মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৭৫০ কোটি টাকা- যা সুদাসলে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। রুগ্ণ শিল্প পুনর্বাসনে বিএনপি-জামাত জোট সরকার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। উপরন্তু ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ৬০০ কোটি টাকা রুগ্ণ শিল্প পুনর্বাসনের জন্য অনুমোদন করেছিল। ওই টাকা বিদায়ী জোট সরকার রুগ্ণ শিল্প পুনর্বাসনে ব্যয় না করে এ খাতের বেশি ড়্গতি করেছে।
রুগ্ণ শিল্পের একজন উদ্যোক্তা বলেন, দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ দিন দিন বাড়ছে। তাই বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সরকারি সহযোগিতা অত্যাবশ্যক। তা না হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হ্রাস পাবে। তিনি বলেন, একটি শিল্পের বিপরীতে ৫০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করার পরও উদ্যোক্তার কাছে ব্যাংক আরো ৫০ লাখ টাকা দাবি করছে। এভাবে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ নির্ধারণ করা হলে শিল্প রুগ্ণ হবে।