কাগজ প্রতিবেদক : মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাসদ নেতা নূর আলম জিকু আর নেই। গতকাল রোববার ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি ২ ছেলে, ১ মেয়ে, অসংখ্য রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অনুসারী, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধব রেখে গেছেন।
মস্তিষ্কে রক্তড়্গরণ, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ৩১ জানুয়ারি তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। দীর্ঘ ২২ দিন অজ্ঞান থাকার পর গতকাল তার মৃত্যু হয়। ইতিপূর্বে ২০০৫ সালেও একবার তার মস্তিষ্কে রক্তড়্গরণ হয়েছিল। তখন শমরিতা, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ব্যাংককের সেন্ট লুইস হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জাসদের সকল গ্রুপের নেতা ও কর্মীরা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা নূর আলম জিকুর মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান এবং গভীর শোক প্রকাশ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন তিনি কুষ্টিয়ায় ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে গ্রেপ্তার হন। জেল থেকে মুক্ত হয়ে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগে যোগদান করেন এবং ১৯৬২ সালে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬২’র শিড়্গা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৬’র ৬ দফা আন্দোলন ও ’৬৯-এর গণআন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি প্রথমে ভারতের দেরাদুনে বিএলএফ-এর প্রথম ট্রেনিং ক্যাম্প কমান্ডার ছিলেন এবং পরে বিএলএফ-এর দড়্গিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতার পর তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি অখণ্ড জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৮৭ সালে জেএসডির সভাপতি নির্বাচিত হন। তার মৃত্যুতে জেএসডি সারা দেশে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দলীয় শোক ঘোষণা করেছে। এ সময় সংগঠনের সকল কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং দলের নেতাকর্মী সদস্যরা কালোব্যাজ ধারণ করবেন।
ঢাকার নবাববাড়ির জামাতা নূর আলম জিকুর প্রথম জানাজা গতকাল রোববার বেলা দেড়টায় আহসানউলস্নাহ মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ অখণ্ড জাসদ পরিবারের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তার লাশ বারডেম হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
আজ সোমবার তার আরো চারটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জানাজা হবে সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে জেএসডির দলীয় কার্যালয়ের সামনে। দ্বিতীয় জানাজা হবে জাসদ অফিসের সামনে দুপুর ১২টায়, তৃতীয় জানাজা হবে বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদের সামনে এবং চতুর্থ জানাজা হবে বাদ আসর সংসদ ভবনের দড়্গিণ পস্নাজায়। তার দাফন হবে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।
নূর আলম জিকু ১৯৮৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতির সঙ্গে সঙ্গে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন তিনি। ‘নিশি হলো ভোর’সহ ৩টি ফিচার ফিল্মের পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন জিকু। তিনি ভারত, চীন, কোরিয়া, জাপান, আফগানিস্তান ও ইরানসহ পৃথিবীর বহুদেশ ভ্রমণ করেন।