কাগজ প্রতিবেদক : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, দ্বিধাবিভক্ত হয়ে জাতি কখনো এগুতে পারে না। আমাদের এখন একতাবদ্ধ হয়ে অর্জনের সময় এসেছে। নইলে আমরা দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হয়ে যাবো। তিনি আরো বলেন, শহীদের রক্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে জাতীয় পার্টিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তবে সে দল অবশ্যই সম্পদ লুট করার জন্য বা লুণ্ঠিত সম্পদ বিদেশে পাচারের লড়্গ্যে গঠিত হবে না। দেশের দরিদ্র মানুষের চোখে হাসি ফোটানোর জন্য জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল রোববার রাজধানীর নব কনভেনশন সেন্টারে মহান মাতৃভাষা দিবস উপলড়্গে জাতীয় পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এসব কথা বলেন। জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ফয়সল চিশতীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও অন্য নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারির দিন আমরা সবাই বাঙালি হয়ে যাই। ঠিক তার পরের দিনই আবার বাচ্চাকে ইংরেজি স্কুলে পড়তে পাঠাই। নিজেরা স্যুট-টাই পরি। একুশের চেতনা সমুন্নত রাখতে হলে নিজেকে সর্বাগ্রে বাঙালি বানাতে হবে।
তিনি বলেন, আমি রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সর্বপ্রথম সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন করি। তখন অনেকেই এর বিরোধিতা করেছিল। এখন প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, হাইকোর্ট বাংলাদেশের ভিতরেই। সব রায়ের কপি বাংলায় লেখা হোক।
প্রতিবারের মতো এবারও হতাশা ব্যক্ত করে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, অনেক আশা ভরসা নিয়ে মহাজোট করেছিলাম। আমাকে তা আস্তে আস্তে আশাহত করছে। এখনো সময় আছে প্রতিশ্রুতি রড়্গা করে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যান।
এরশাদ বলেন, সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসলে দেশে কেউ বিনিয়োগ করবে না। সৌদি আরবসহ শ্রম আমিদানিকারক দেশগুলো বাংলাদেশী কর্মী নিচ্ছে না। মালয়েশিয়া, নেপাল থেকে কর্মী নিচ্ছে। এ সময় ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা দরকার। এ ব্যর্থতা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, মহাজোট সরকারে এরশাদের কোনো বিকল্প নেই। এরশাদের মূল্যায়নের মাধ্যমেই মহাজোট সরকারের সব সফলতা বয়ে আনবে।