কাগজ প্রতিবেদক : রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সহিংস ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সেখানে সেনাবাহিনী রাখার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল রোববার দুপুরে উত্তরার বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা এ ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত ও শঙ্কিত। পার্বত্য অঞ্চলে সেনা প্রত্যাহারের কারণেই রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সহিংস ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রটোকল না দেয়ায় ড়্গোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারের গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসরণ করা উচিত। এ সরকার বিরোধীদলীয় নেতাকে তার প্রাপ্য সম্মান দেয়নি। সরকারের নির্দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপড়্গ উদ্দেশ্যমূলকভাবে খালেদা জিয়ার প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক।
সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে বলে উলেস্নখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। এ কারণে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে মানুষ এখন লাশ হয়ে ঘরে ফিরছে। সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া বাজারে শনিবার রাতে শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার সময় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলায় বিএনপি কর্মী নিহত হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা প্রত্যাহার সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। বিএনপি এতে আপত্তি জানিয়েছিল। আমরা সে সময়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম, সেনা প্রত্যাহার করা হলে সেখানে চরম বিপর্যয়কর পরিস্থিতি হতে পারে। আমরা আগে থেকেই বলে আসছি, পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি স্পর্শকাতর এলাকা। সব মহলের সঙ্গে আলোচনা না করে সেখানকার সমস্যা সমাধানের আগে সেনা প্রত্যাহার করা উচিত হবে না। সে সময় কার স্বার্থে সেনা প্রত্যাহার করেছিল সরকার এটিই এখন বড় প্রশ্ন। সেনা প্রত্যাহারের পর একের পর এক সহিংস ঘটনা ওই এলাকায় বাঙালি ও পাহাড়িদের জানমালের নিরাপত্তা অরড়্গিত হয়ে পড়েছে। তিনি অবিলম্বে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানান।
তিনি বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদনের পরও আমরা বলেছিলাম, ওই চুক্তি সবার সঙ্গে আলোচনা করে পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। নইলে ওই এলাকায় পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সহাবস্থানের ভারসাম্য থাকবে না। চুক্তি নিয়ে পড়্গ-বিপড়্গ রয়েছে। এ জন্যই সবাইকে নিয়ে সরকারের আলোচনায় বসায় উচিত ছিল। কিন্তু একদলীয় মানসিকতার সরকার তা করেনি। কিন্তু সরকারের ভুলের খেসারত এখন পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে দিতে হচ্ছে।