Bangla Blog

Sunday
Sep 05th
Home vorer-kagoj বাঘাইছড়িতে আরেকটি লাশ উদ্ধার অবরোধে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িবহর

বাঘাইছড়িতে আরেকটি লাশ উদ্ধার অবরোধে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িবহর

User Rating: / 1
PoorBest 
শৈলেন দে, নন্দন দেবনাথ ও মংসাপ্রু মারমা, বাঘাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) থেকে : রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘর্ষের পর সেখানে এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এলাকায় ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে। গতকাল রোববার বাঘাইছড়িতে লক্ষ্মী বিজয় চাকমা নামে একজন আদিবাসীর লাশ উদ্ধারের পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিড়্গুব্ধ পাহাড়িরা তার লাশ নিয়ে মিছিল করে। এই নিয়ে দুটি লাশ উদ্ধার হলেও পাহাড়িদের দাবি নিহতের সংখ্যা ৬ জন। এদিকে, গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পাহাড়িদের তোপের মুখে পড়েন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার। পাহাড়িরা তার গাড়িবহরে তিনবার হামলা চালায়। প্রতিমন্ত্রী এক সপ্তাহের মধ্যে ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। বাঘাইছড়িতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে। বিড়্গুব্ধ পাহাড়িরা গতকাল ইউএনওর গাড়িতেও হামলা চালায়। সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ পর্যন্ত ২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পাহাড়ি ও বাঙালিদের পড়্গ থেকে দাবি করা হচ্ছে এখনো ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পড়্গের ২ শতাধিক বাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। পুরো বাঘাইছড়ি উপজেলায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পাহাড়ি-বাঙালি উভয় সমপ্রদায়ের মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অগ্নিদগ্ধ গ্রামগুলোর ড়্গতিগ্রস্ত বাড়ির ধ্বংস-স্তূপ থেকে গতকালও ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। উপজেলার বংগালতলীর বটতলা এলাকা থেকে বিড়্গুব্ধ পাহাড়িরা লক্ষ্মী বিজয় চাকমা (৩৭) নামে এক যুবকের লাশ নিয়ে বিড়্গোভ করে। বিড়্গোভ মিছিলসহ উত্তেজিত জনতা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি বহর তিন দফা অবরোধ করে এবং ইট-পাটকেল, গাছের ডাল নিড়্গেপ করে। প্রথম দফায় বাঘাইছড়ির বটতলী এলাকায় লাশ নিয়ে অবরোধ শুরু করে। পরে গঙ্গারামমুখ এলাকায় উত্তেজিত পাহাড়ি জনতা বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িতে জুতা ও লাথি মারে। এ হামলায় দ্বিতীয় দফা বেঁচে গেলেও হাজাছড়া এলাকায় উত্তেজিত জনতা রাস্তায় গাছ ফেলে ব্যারিকেড দেয়। ব্যারিকেডের ফলে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি বহর আটকা পড়ে। এ সময় উত্তেজিত উপজাতীয় মহিলারা বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি লড়্গ্য করে গাছের ডালপালা, আগুনে পোড়া কলার ছড়ি ছুড়ে মারে। এতে ইউএনওর গাড়ির ড়্গতি হয়। হামলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম হুমায়ুন কবীর ও তার ড্রাইভার মিহির চৌধুরী আহত হন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের নাম জানা গেছে তারা হচ্ছেন- রুপম চাকমা (১৮), ভূইট্টা চাকমা (১৮), রুপেন চাকমা, কুইক্যা চাকমা, মোঃ আরিফ হোসেন (২২), মোঃ হানিফ (১৭), মোঃ ইয়াকুব (৪২), ইয়াছিন (৩২), মোঃ দুলাল (৩২) ও আবুল কাশেম (৩৫)। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ এ পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে ৪ জনের নাম জানা গেছে। এরা হচ্ছে- দেবেন্দ্র চাকমা, রূপায়ন চাকমা, মিঠুন চাকমা ও মিথ্যান চাকমা। তাদের কাছ থেকে একটি ধনুক ও একটি ধারালো অস্ত্র এবং একটি ধনুকের ব্যবহৃত ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত ৮ জনকে বাঘাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জনের নাম জানা গেছে। তারা হচ্ছেন- শান্তিশীল চাকমা, মৃতঞ্জয় চাকমা, প্রেমলাল ও ভারত চাকমা। পাহাড়ি গ্রামবাসীরা দাবি করেন, সামপ্রদায়িক এই ঘটনায় উপজাতীয়দের ৬ জনের লাশ স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে গুম করা হয়েছে। অপর দিকে বাঘাইহাট বাজারের স্থানীয় বাঙালিরা দাবি করেন, তাদের ১ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৮ জন আহত ও ৮ জন নিখোঁজ রয়েছে। অন্যদিকে সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, শনিবারের ঘটনায় আহত ২ সেনা সদস্য চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম সিএমএইচ-এ আছেন সার্জেন্ট রেজাউল হক। গতকাল পরিস্থিতি শান্ত করতে পাহাড়ি-বাঙালি উভয় পড়্গের সঙ্গে কথা বলতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার এমপি ঘটনাস্থলে যান। এ সময় উপজাতীয় শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপিসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা সরজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে পথের মধ্যে দফায় দফায় অবরোধের মুখে পড়েন। একাধিক স্থানে মন্ত্রীর গাড়ি বহরকে পাহাড়িরা প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। এক পর্যায়ে বিড়্গুব্ধ উপজাতীয় গ্রামবাসী প্রতিমন্ত্রীকে লাশ দেখতে বাধ্য করে। লাশ দেখার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার উপজাতীয়দের উদ্দেশ্যে বলেন, পরিস্থিতি দেখতে আমি নিজেই ঘটনাস্থলে এসেছি। এ ঘটনা খুবই দুঃখজনক উলেস্নখ করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া গ্রামবাসীরা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার, ড়্গতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, আহতদের চিকিৎসাসহ বাঙালি ও সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নিয়ে তাদের বেদখলকৃত জায়গা-জমি ফেরত দেয়ার দাবি জানান। শনিবারের ঘটনায় বাঘাইছড়ির সাজেকের কয়েকটি পাহাড়ি-বাঙালি গ্রামের দুশতাধিক বাড়িঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বৌদ্ধ বিহার, একটি গির্জা সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। তবে স্থানীয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত ড়্গতিগ্রস্তদের তালিকা নিরূপণ করতে পারেনি। কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনায় বাঙালিদের ৫৩টি ও পাহাড়িদের ৭৪টি বাড়ি সম্পূর্ণ ড়্গতিগ্রস্ত হয়েছে। বঙ্গাতলী থেকে ফেরার পথে সাজেকের বাঘাইহাটে বাঙালিরা প্রতিমন্ত্রীর বহরকে অবরোধ করেন। এসময় মন্ত্রী বাঙালি গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে সাজেক ইউনিয়ন পরিষদে এক সংড়্গিপ্ত মতবিনিময় সভা করেন। মতবিনিময় সভায় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ নয়। এখানে পাহাড়ি-বাঙালি সবাই সমভাবে বসবাস করবে। একটি সামপ্রদায়িক গোষ্ঠী এখানে সামপ্রদায়িক উস্কানি দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ অপচেষ্টা সারা দেশ জুড়ে চালাচ্ছে। তিনি পাহাড়ি-বাঙালি সকলকে সামপ্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-সমপ্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করার জন্য পরামর্শ দেন। আঞ্চলিকতার ধুয়া তুলে একটি গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে চায়। তারা এখানে অস্ত্রবাজি ও চাঁদাবাজি করছে। সরকার এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসতে সকলকে আহ্বান জানান। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, বাঘাইছড়ি জোন কমান্ডার লে. কর্নেল ওয়াসিম, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী, পুলিশ সুপার মাসুদুল হাসান, রাঙ্গামটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি কামাল উদ্দিন, বাঘাইহাট বাজার সেক্রেটারি ডা. নাজিম উদ্দিন প্রমুখ। নিহত বুদ্ধপুতি চাকমা (৩৯) ও লক্ষ্মী বিজয় চাকমার (৩৭) লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। উলেস্নখ্য যে, ২০০৮ সালের ২০ এপ্রিল ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি-বাঙালি উভয়ের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয়ের ১৮১টি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। এ ঘটনার রেশ ধরে উক্ত এলাকায় উভয়ের মধ্যে ভূমি বিরোধ অব্যাহত থাকে। এসব এলাকায় যে ভূমি নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে তা সরকারি সংরড়্গিত বনাঞ্চল। ঘটনার প্রতিবাদে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান- তিন পার্বত্য জেলায় সড়ক ও নৌপথে ডাকা অবরোধ এসএসসি পরীড়্গার কারণে ২২ এর পরিবর্তে ২৩ ফেব্রুয়ারি আহ্বান করেছে।
Comments (0)Add Comment

Write comment
You must be logged in to post a comment. Please register if you do not have an account yet.

busy
 

ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রীর ‘শিক্ষা’ কাজে লাগাবে বিএনপি— প্রধান বিরোধী দলের এই মনোভাব সমর্থন করেন কি?

কিবোর্ড নির্বাচন করুন

ইনস্ক্রিপ্ট
ইউনিজয়
প্রভাত
ফনেটিক
ফনেটিক ইন্ট.
English

ব্যাবহারিক লগইন ফর্ম

কে অনলাইনে আছেন

আমাদের এখন 8 জন অতিথি অনলাইনে আছেন