তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম ব্যুরো
আবারও পুলিশের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়ালেন সংবাদপত্রে বারবার শিরোনাম হওয়া চিটাগাং চেম্বার সভাপতি ও সরকার দলীয় সাংসদ এমএ লতিফ। একুশের প্রথম প্রহরে চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গিয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অনুগত নেতাকর্মীদের নিয়ে বেদিতে ওঠার সময় বাধা দেওয়ায় দায়িত্বরত পুলিশ সার্জেন্ট হাফিজের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেন তিনি। পরে অবশ্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে সার্জেন্ট হাফিজের মাথায় হাত বুলিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন সাংসদ লতিফ। অপরদিকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য সবাই জুতা ছাড়া বেদিতে উঠলেও সাংসদ লতিফ জুতা পায়েই বেদিতে উঠে যান এবং জুতা পায়েই বেদিতে ফুল দেন।
প্রসঙ্গত এর আগেও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও চট্টগ্রাম বন্দরের এক পুলিশ সদস্যকে লাঞ্ছিত করাসহ একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিয়ে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তোলেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, একুশের প্রথম প্রহরে চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান সাংসদ লতিফ। এ সময় তার সঙ্গে বেশ কিছু সংখ্যক আওয়ামী লীগ দলীয় অনুগত নেতাকর্মী ছিলেন। বেদিতে ওঠার জন্য নির্ধারিত পথের পরিবর্তে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তিনি ভিন্ন পথে শহীদ মিনারে ওঠার চেষ্টা করেন। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশের সার্জেন্ট কর্মী-সমর্থকদের বাধা দিলে ক্ষেপে যান এমএ লতিফ। বাদানুবাদের এক পর্যায়ে সার্জেন্টকে ধাক্কা দেন তিনি। হৈ-হুল্লোড় ও জটলা দেখে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা। তাদের হস্তক্ষেপে এমএ লতিফ সার্জেন্ট হাফিজের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ চট্টগ্রাম পুলিশ প্রশাসন।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে এমএ লতিফ সমকালকে বলেন, তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। একজন কর্মীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ায় এক পুলিশ সদস্যকে আমি তিরস্কার করেছি মাত্র। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা পরিকল্পিতভাবে সামান্য ভুল বোঝাবুঝির এ ঘটনাকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। লাঞ্ছিত পুলিশ কর্মকর্তা এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।