লোটন একরাম
দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে আগামী মার্চে বর্ধিত সভা করবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলের পর এটিই হবে নতুন কমিটির প্রথম বর্ধিত সভা। সভা থেকে আগামী এক বছরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, সরকারবিরোধী আন্দোলন, দলীয় নেতাদের মামলা-হামলা মোকাবেলাসহ সার্বিক বিষয়ে রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে। অবশ্য এর আগে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক আহ্বান করা হবে। দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে আগামী এক বছর মাঠ গরম রাখতে চায় বিএনপি। বিরোধী দল হিসেবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তৃণমূল পর্যায় থেকে দলকে সুসংগঠিত করতে চাচ্ছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। এ বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় সে সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের নেতাদের সুনির্দিষ্ট মতামত নিতে চান তারা। মাঠের নেতাদের সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা দলকে আগামীতে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। একইসঙ্গে দলের হাইকমান্ডও মাঠনেতাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেবেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, বিএনপির আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতেই বর্ধিত সভা ডাকার
চিন্তা-ভাবনা চলছে। শিগগির দলের হাইকমান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে।
জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক আহ্বান করা হতে পারে। সভায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। একইসঙ্গে চারদলীয় জোটকে আবারও সক্রিয় করে ঐক্যবদ্ধ সরকারবিরোধী আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চাপের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী সমকালকে বলেন, সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে, তাতে দেশপ্রেমিক দল হিসেবে বিএনপি চুপচাপ বসে থাকতে পারে না। দেশ ও জনগণের স্বার্থরক্ষায় করণীয় নির্ধারণ করতে শিগগির দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে বর্ধিত সভার আগেই কিছু সাংগঠনিক ও আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিএনপি। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দলের কারণে স্থগিত করা জেলা ও মহানগরগুলোতে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারা কোন্দল নিরসনে এরই মধ্যে জেলা সফর শুরু করেছেন। নেতাদের জেলা সফর শেষে আগামী এপ্রিল থেকে বিভাগীয় শহরগুলোতে জনসভা শুরু করবেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দেশের ১০টি স্থানে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাও শুরু করা হয়েছে। মহাসচিবের কাছে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সাংগঠনিক রিপোর্ট এবং ফেব্রুয়ারির মধ্যে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন করে বইয়ের মুড়ি ও সদস্যদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
পাশাপাশি ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে থাকার কৌশল নিয়েছে দলটি। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে মহানগর, জেলা, উপজেলা ও পৌরসভায় বিক্ষোভ সমাবেশের পর সাত বিভাগে সমাবেশ এবং সারাদেশে এক মাস গণসংযোগ করা হবে। এ কর্মসূচি শেষে রাজধানীর পল্টন ময়দানে মহাসমাবেশ করবে তারা। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সমাবেশ থেকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন, খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে বোমা রাখা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও ভারতের সঙ্গে 'দেশবিরোধী' চুক্তির প্রতিবাদে এসব কর্মসূচিতে মাঠে থাকবে বিরোধী দল।