বদরুদ্দোজা সুমন
ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ 'এভানডিয়া' হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ওষুধটির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গ্গ্নাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশে এটি বাজারজাত না করলেও চোরাইপথে এসে দেশের বিভিন্ন ফার্মেসিতে বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। একই কাঁচামাল ব্যবহার করে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো
সমগোত্রীয় ওষুধ উৎপাদন
ও বিপণন করে বলে জানিয়েছেন ডায়াবেটিক বিশেষজ্ঞরা। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ফিন্যান্স কমিটি এ বিষয়ক একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। রিপোর্টে ওষুধটির ক্ষতিকারক দিক গোপন করে বাজারজাত করার অভিযোগ আনা হয়েছে গ্গ্নাক্সোস্মিথক্লাইন কোম্পানির বিরুদ্ধে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশের ডায়াবেটিক বিশেষজ্ঞরা সমগোত্রীয় ওষুধগুলো প্রেসক্রিপশনে লেখা এবং ব্যবহারের ব্যাপারে চিকিৎসক এবং রোগীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গ্গ্নাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশের মেডিকেল অ্যান্ড রেগুলেটরি সার্জন ডা. সোহান আহমেদ বলেন, ওষুধটি বাংলাদেশে আমরা এখনও বাজারজাত করিনি। কাউকে পেটেন্ট রাইটও দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে বাজারজাত করা হবে কি-না সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে চোরাইপথে কেউ বাজারজাত করলে তার দায়দায়িত্ব আমাদের নয়। গত রাতে রাজধানীর কয়েকটি বড় ফার্মেসি এবং গ্রিন রোডের ওষুধের দোকানে খোঁজ নিয়ে তাৎক্ষণিক ওষুধটি পাওয়া যায়নি। তবে ওষুধের বাজারে এটি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন একাধিক ওষুধ বিক্রেতা।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি প্রফেসর একে আজাদ খান বলেন, এভানডিয়ার কাঁচামাল রসিগ্গি্নটাজোন ব্যবহার করে স্থানীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো সমগোত্রীয় ওষুধ উৎপাদন করে। তিনি বলেন, সব ওষুধেরই কম-বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। এসব ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। বিশিষ্ট ডায়াবেটিক বিশেষজ্ঞ ডা. হাজেরা মাহতাব বলেন, এই ওষুধ এবং সমগোত্রীয় ওষুধগুলোর ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে চিকিৎসকরা এখন কম-বেশি জানেন। তাই একান্ত দরকার না হলে আমরা এগুলো প্রেসক্রাইব করি না।
সিনেট কমিটির তদন্তকারীরা দু'বছরে গ্গ্নাক্সোস্মিথক্লাইন, যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বলেছেন, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে এভানডিয়ার যোগসূত্র রয়েছে। বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার কারণে এফডিএর কড়া সমালোচনা করেছে কমিটি। এফডিএর বিজ্ঞানীদের ২০০৭ সালের জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, বাজারে আসার পর ওষুধটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ৮৩ হাজার হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা ঘটেছে। কমিটির চেয়ারম্যান ডেমোক্র্যাট সিনেটর বাওকাস বলেন, গ্গ্নাক্সোস্মিথক্লাইন ঝুঁকি সম্পর্কে জেনে এবং জনগণের কাছে তা গোপন করে এই ওষুধটি বাজারজাত করেছে।
তবে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে গ্গ্নাক্সোস্মিথক্লাইনের মুখপাত্র ন্যান্সি পেকারেক সিএনএনকে বলেন, এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা এখনও নগণ্য। এফডিএ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পুনর্মূল্যায়ন করে ওষুধটি বাজারজাত করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ বিশেষজ্ঞরা হার্টের জন্য বেশি মাত্রায় ক্ষতিকর হওয়ায় বাজার থেকে ওষুধটি প্রত্যাহার করার সুপারিশ করেছেন। রিপোর্ট প্রকাশের পর এফডিএ কমিশনার মার্গারেট হামবুর্গ এক বিবৃতিতে জানান, আমি অ্যাডভাইজরি কমিটির রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছি। পর্যালোচনা শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।