সমকাল প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবার অভিযোগ করলেন, বিদেশি গুপ্তঘাতকরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে তাদের কাছে তথ্যপ্রমাণও রয়েছে। তার দাবি শিবির নির্দোষ। গতকাল রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মহানগর জামায়াত আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। কয়েক দিন আগেও মাওলানা নিজামী অভিযোগ করেছিলেন সরকার ও ছাত্রলীগ পরিকল্পিতভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হত্যা করেছে। মহানগর জামায়াতের আমির রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজাহারুল ইসলাম ও
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক তাসনীম আলম, মহানগর সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল।
নিজামী বলেন, ওই রাতে (৮ ফেব্রুয়ারি) শাহ মখদুম হলে মাফলার পরিহিত ৭/৮ যুবক কে বা কারা ছিল তা কেউ বলতে পারে না। এরা শিবিরেরও নয়। ছাত্রলীগেরও নয়। মাওলানা নিজামী দাবি করেন, মাফলার পরিহিতরা ছিল বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার গুপ্তঘাতক। তিনি রাজশাহীর ঘটনার সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা 'মোসাদ'-এর জড়িত থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
শিবিরকে নির্দোষ দাবি করে নিজামী বলেন, শিবিরের নেতাকর্মীরা বয়সে তরুণ হলেও বেকুব নয়। তারা জানে তাদের হামলায় কোনো অঘটন ঘটলে প্রশাসন তাদের ছাড়বে না। ওই রাতে ছাত্রলীগ ও পুলিশের যৌথ মহড়ায় তারা হলছাড়া হয়।
মাওলানা নিজামী দাবি করেন ইসলামী রাজনীতি বন্ধের পটভূমি সৃষ্টির জন্যই পরিকল্পিতভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহিংসতা ঘটানো হয়েছে। নিজামী যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র' ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা 'মোসাদ'-এর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ইসলামবিদ্বেষী দেশের গোয়েন্দা সংস্থা আমাদের দেশের ইসলামী দলগুলোর নেতাকর্মীদের আবাসস্থলে অস্ত্র রেখে ফাঁসানোর নির্দেশনা দিয়েছে। এর প্রমাণ চট্টগ্রাম ও মেহেরপুর। 'র' ও 'মোসাদ' মিলে ইসলামী দলের ১০ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের পরিকল্পনা করছে।
ইসলামী রাজনীতি বন্ধের চেষ্টার পরিণতি ভালো হবে না_ সরকারকে এমন হুশিয়ারি দিয়ে নিজামী বলেন, বাংলাদেশের কোনো ঘরে যদি একটি কোরআনও থাকে, তবে সেই কোরআনের আদর্শে বিশ্বাসী জামায়াতের রাজনীতিও থাকবে। কেউ তা বন্ধ করতে পারবে না। চেষ্টা হলে প্রতিরোধ হবে।