২০০৯ সালে রাজধানীর সব থানায় ৩২১টি খুনের মামলা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এগুলোর মধ্যে ৬৭টি খুনের ঘটনায় অর্থাত্ ২১ শতাংশের ক্ষেত্রে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহূত হয়েছে। একই সময় রাজধানীতে ৯৩টি ডাকাতি ও ৪৪৫টি ছিনতাই বা দস্যুতা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রায় ৮০ শতাংশের ক্ষেত্রেই অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, রাজধানীতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে গেছে। অনেক সন্ত্রাসী এখন প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করছে। অস্ত্র ঠেকিয়ে খুন, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের পাশাপাশি চাঁদাবাজিও হচ্ছে। অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের কোনো তত্পরতা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এ কে এম শহীদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সীমান্ত থেকে ছোট আকারের অস্ত্র আসছে। এসব অস্ত্র সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করছে। এর আগে যেসব সন্ত্রাসী ধরা পড়েছে, তাদের কাছ থেকে নতুন অস্ত্র পাওয়া গেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের হিসাবে দেখা গেছে, ২০০৯ সালে প্রতি মাসে গড়ে আটটি করে ডাকাতি ও ৩৭টি করে দস্যুতার মামলা হয়েছে। একই সময় ২৭টি করে খুন ও ৫৬টি করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। একই সময়ে প্রতি মাসে গড়ে ৪৮টি করে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। প্রতি দুই দিনে একটি করে দাঙ্গা হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছর বাদ দিয়ে এ সংখ্যা জোট সরকারের আমলের মতোই বলে পুলিশ কর্মকর্তারা অভিমত দিয়েছেন। মহানগর পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের তুলনায় পরিস্থিতি ভালো। ওই সময় রাজধানীতে প্রতি মাসে গড়ে ৩২টি করে খুনের ঘটনা ঘটেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত হন ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হোসেন। অস্ত্রধারী তিন সন্ত্রাসী রাজধানীর মানিকদী এলাকায় তাঁকে খুন করে। এর আগের দুই দিনেই রাজধানী ও এর সংলগ্ন কেরানীগঞ্জে খুন হয়েছেন ছয়জন। ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বিএনপির নেতা আহাম্মদ হোসেন নিজ বাড়ির কাছে খুন হন। পুরান ঢাকায় দিনদুপুরে খুন হয়েছেন চাল ব্যবসায়ী আফিলউদ্দীন।
শুধু খুনই নয়, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা রাজধানীতে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার, খুন ও ছিনতাইয়ের প্রধান কারণ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা। পুলিশ তত্পর হলেই এ ধরনের অপরাধ কমে যায়। অস্ত্র উদ্ধারের নামে তারা যেসব অভিযান চালাচ্ছে, তাতে সাফল্য আসছে না। অভিযান সফল না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করার সাহস পাচ্ছে।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এএসএম শাহজাহান এ প্রসঙ্গে প্রথম আলোকে বলেন, সন্ত্রাসী যদি অবৈধ অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করার সুযোগ পায়, তাহলে সে এটার ব্যবহার করবে। আর অস্ত্র ব্যবহার করলেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। অস্ত্র যাতে ব্যবহার হতে না পারে, সে জন্য অস্ত্রধারীদের তালিকা করে গ্রেপ্তার অভিযান চালাতে হবে।