ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গত এক মাসে মোটা চালের দর বেড়েছে গড়ে সাড়ে নয় শতাংশ। চিকন চালে বেড়েছে পাঁচ শতাংশের কিছু বেশি। প্রতি কেজি মোটা চালের দর এখন ২৬ থেকে ২৮, মাঝারিটা ৩৩ থেকে ৩৭ এবং চিকন চাল ৩৬ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
দেশের বৃহত্তর চালের মোকামগুলোর ব্যবসায়ীরা জানালেন, বছরের এ সময় আমন চালের মজুদ কমতে শুরু করে। ফলে দাম কিছুটা বাড়তির দিকে থাকে। তবে সরকারের খোলা বাজারে চাল বিক্রি কার্যক্রম (ওএমএস) বজায় থাকলে দাম বাড়ার আর কোনো আশঙ্কা নেই।
খাদ্য ও দুর্যোগব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ২৫ ফেব্রুয়ারি দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একযোগে খোলা বাজারে চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশের সব জেলার প্রতিটিতে ১০ ও উপজেলায় পাঁচজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
হতদরিদ্রদের জন্য ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রির কার্যক্রমও ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে বলে জানা গেছে। খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২৪ লাখ ৭০ হাজার হতদরিদ্রের তালিকা করে ন্যায্যমূল্য কার্ড (ফেয়ার প্রাইজ কার্ড) দেওয়া শুরু হচ্ছে। এরই মধ্যে ২৫ লাখ কার্ড ছাপা হয়ে গেছে। আগামী সোমবারের মধ্যে তা বণ্টন শুরু হতে পারে।
ওএমএস ও ন্যায্যমূল্যের কার্ডধারী উভয় ব্যক্তি ২২ টাকা কেজি করে চাল পাবেন। ডিলারদের এই চাল দেওয়া হবে সাড়ে ২০ টাকা দরে। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পিউস কস্তা প্রথম আলোকে বলেন, সোমবারের মধ্যে সারা দেশে ওএমএস ও ন্যায্যমূল্য কার্ডে চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি গুদামে সাড়ে আট লাখ টন চাল রয়েছে। যত দিন প্রয়োজন খোলা বাজারে চাল বিক্রি কার্যক্রম চালানো যাবে।
গতকাল শনিবার খাদ্য ও দুর্যোগব্যবস্থাপনামন্ত্রী ওএমএস কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। সকাল নয়টা থেকে একটানা বেলা দুইটা পর্যন্ত আকস্মিকভাবে যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, জুরাইন, আইজি গেট, পোস্তগোলা, মিরহাজিরবাগ, দয়াগঞ্জ ও গেন্ডারিয়া এলাকার ট্রাক ও দোকান ডিলারদের ওএমএস কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ ছাড়াও তিনি যাত্রাবাড়ী কলাপট্টি, শ্যামপুর ও পোস্তগোলার বিভিন্ন চালের আড়ত এবং খুচরা বাজারে চালের দাম পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনকালে খাদ্যমন্ত্রী চাল কিনতে আসা মানুষ ও ডিলারদের সঙ্গে ওএমএস কার্যক্রমের বিষয়ে কথা বলেন। উপস্থিত ক্রেতারা মাথাপিছু চালের পরিমাণ এবং বিক্রয়ের সময় বাড়ানোর দাবি করেন। তাঁরা জানান, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চাল বিক্রি করায় অনেক কর্মজীবী লোক দিনের কাজ শেষে চাল কিনতে পারে না। আবার সকাল বেলায় চাল কিনে কাজে যাওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয় না। মন্ত্রী চাল বিক্রির সময় ও পরিমাণ বাড়ানোর আশ্বাস দেন।
Set as favorite
Bookmark
Email this
Hits: 234
Comments (0)

Write comment
You must be logged in to post a comment. Please register if you do not have an account yet.
| < Prev | Next > |
|---|
২৪ লাখ ৭০ হাজার কার্ডধারী ২২ টাকা দরে চাল পাবে

