Sunday, Feb 05th

Last update11:25:54 AM GMT

You are here: prothom-alo আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে গাংনীতে একজন নিহত

আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে গাংনীতে একজন নিহত

E-mail Print PDF
User Rating: / 0
PoorBest 
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মাইলমারী পদ্মবিলের কর্তৃত্ব নিয়ে গতকাল শনিবার সকালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের প্রায় ৩৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন।
নিহত ব্যক্তির নাম সেন্টু মিয়া (৩৫)। তিনি মাইলমারী গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে। সেন্টু বিএনপির কর্মী বলে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মাইলমারী পদ্মবিলটি উপজেলার কাঠুলী ইউনিয়নে অবস্থিত। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাফর আকবর বিলটির মালিকানা দাবি করে কয়েক বছর ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। কয়েক মাস আগেও তিনি বিলে মাছ ছাড়েন। কিন্তু গত দুই মাস আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মাইলমারী গ্রামের বাসিন্দা নবীরুদ্দিন আলী বিলটি নিজের দাবি করলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিএনপির নেতা জাফরের নেতৃত্বে তাঁর লোকজন গতকাল সকালে বিলে মাছ ধরা শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে নবীরুদ্দিন তাঁর লোকজন নিয়ে সেখানে গিয়ে জাফরের লোকজনকে মাছ ধরতে বাধা দেন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে উভয়পক্ষের প্রায় ৩০০ মানুষ লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জাফরের ভাগ্নে বিএনপির কর্মী সেন্টু মারা যান। আহত হন উভয়পক্ষের ৩৫ জন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিলের মালিক দাবিদার কাঠুলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাফর আকবর জানান, ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি বিলটি ভোগদখল করে আসছেন। এ নিয়ে সরকার পক্ষের সঙ্গে তাঁর মামলাও হয়। মামলায় জেলা জজ আদালত তাঁর পক্ষে রায় দেন। পরে মামলাটি হাইকোর্টে গেলে রায় তাঁর অনুকূলে হয়। এ মৌসুমেও বিলে তিনিই মাছ ছাড়েন। কেউ বাধাও দেয়নি।
জাফর অভিযোগ করেন, গতকাল সকালে তিনি (জাফর) তাঁর আত্মীয়স্বজন নিয়ে মাছ ধরার সময় নবীরুদ্দিনের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন সশস্ত্র ক্যাডার তাঁদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তাঁর ভাগ্নে সেন্টু ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন ২৫ জন কর্মী। তাঁদের মধ্যে আজমাইন (৩৬), জাহারুল (৪৫), আমিরুল (৫৫) ও সেন্টুকে (২৫) গুরুতর অবস্থায় গাংনী, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জাফর আরও অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের সময় আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা বিএনপির কর্মী আতিয়ারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং আরশেদের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। জানা যায়, পরে দমকল বাহিনীর কর্মীরা গিয়ে আতিয়ারের বাড়ির আগুন নেভান।
আওয়ামী লীগের নেতা নবীরুদ্দিন আলী অভিযোগ করে বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের সময় জাল দলিল করে বিএনপির নেতা জাফর বিলটি নিজের করে নেন। তিনি (নবীরুদ্দিন) জানান, মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি বিলটির দখল জনগণের কাছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন এবং বিলে মাছ ছাড়েন। গতকাল জাফরের ক্যাডাররা জোর করে বিলের মাছ ধরতে গেলে তাঁর নেতৃত্বে গ্রামের লোকজনও মাছ শিকারে যায়। এ সময় জাফর পক্ষ গ্রামে ডাকাত হিসেবে পরিচিত পালান, বাবলু, টুলুসহ ২৫-৩০ জনকে নিয়ে তাঁদের লোকজনের ওপর হামলা করে। তাঁরা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বেধে যায়।
সেন্টু তাঁদের লোকজনের আঘাতে মারা যাননি বলে দাবি করে নবীরুদ্দিন বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে সেন্টু পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের এক সদস্য রাইফেলের বাঁট দিয়ে সেন্টুর মাথায় আঘাত করেন। এতে সেন্টু প্রাণ হারান। নবীরুদ্দিন জানান, সংঘর্ষে রুবেল (১৯), সিদ্দিক (২১), আলফাজ (২৯), খলিল (৩৪), হাসান (১৭), শহীদুল (৩৪), ইয়াসিনসহ (৩২) তাঁদের ১০ জন আহত হন।
নিহত সেন্টুর ভাই টুটুলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতা নবীরুদ্দিনের ক্যাডাররা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করলে সেন্টু ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পুলিশের রাইফেলের আঘাতে নয়, হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতেই বিএনপির কর্মী সেন্টু মারা যান উল্লেখ করে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সগীর মিয়া প্রথম আলোকে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের পর লাশ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) হেলাল উদ্দিন জানান, বিল কখনোই ব্যক্তি-মালিকানাধীন হয় না। ওই বিলটিসহ মেহেরপুরের সব বিলই মত্স্য অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে মত্স্যজীবী বিভিন্ন সমিতির কাছে ইজারা দেওয়া আছে। তবে, কাগজ না দেখে এ সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাংনী উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সাহারবাটি ইউনিয়নের মাইলমারী পদ্মবিলটি ছিল সরকারি। ক্যাডেস্ট্রিয়াল সার্ভে (সিএস) নকশা অনুযায়ী মাইলমারী পদ্মবিলের প্রকৃত আয়তন ছিল ২৫ দশমিক ৪৩ একর। পরে এস্টেট সার্ভে (এসএ) এবং রিভিশন সার্ভেতে (আরএস) সম্পূর্ণ বিলটি ব্যক্তি-মালিকানায় অবৈধভাবে রেকর্ডভুক্ত হয়ে যায়। জেলায় এ রকম ১৪টি বৃহত্ বিলের অধিকাংশ জমিই এখন অবৈধ দখলে আছে। জরিপ তথ্য তুলে ধরে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
Comments (0)Add Comment

Write comment
You must be logged in to post a comment. Please register if you do not have an account yet.

busy