Sunday, Feb 05th

Last update11:25:54 AM GMT

You are here: prothom-alo নাম হলো যার অমর একুশ

নাম হলো যার অমর একুশ

E-mail Print PDF
User Rating: / 0
PoorBest 
আজ রক্তঝরা অমর একুশে। মহান শহীদ দিবস। মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের রক্ত ঢেলে দেওয়ার দিন। সালাম, রফিক, বরকত আর শফিউরের মতো বিষণ্ন থোকা থোকা নামগুলো স্মরণ করে গর্বে বুক ভরে ওঠার দিন।
কালের পরিক্রমায় এই দিনটি আজ গোটা বিশ্ববাসীর জন্যই মাতৃভাষাকে সম্মান জানানোর উপলক্ষ। আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
ব্রিটিশ ভারত ভেঙে পাকিস্তান হওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই পূর্ববাংলাবাসীর প্রথম মোহভঙ্গ ঘটেছিল এই ভাষাকে কেন্দ্র করেই। যে ভাষা আন্দোলনকে ঘিরে বাঙালি তার আত্মপরিচয় আর স্বাতন্ত্র্য নিয়ে প্রথমবারের মতো সচকিত হয়ে উঠেছিল, বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি তার সবচেয়ে উজ্জ্বল ক্ষণ।
ভাষার দাবিতে আন্দোলন চলছিল কয়েক বছর ধরেই। পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মুখের ভাষাকে উপেক্ষা করে পাকিস্তানের সংহতি রক্ষার অজুহাতে উর্দুকে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের আভাস পেতেই প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছিল বাঙালি। ১৯৪৮ সালের ২১ ও ২৩ মার্চ ঢাকায় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুর পক্ষে ওকালতি করলে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল ছাত্র-জনতা। বুদ্ধিজীবী-ছাত্র-জনতা গড়ে তোলে দুর্বার আন্দোলন।
এভাবেই ঘনিয়ে এসেছিল বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি। ভাষার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে আগের দিন সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ঢাকায় ঘোষিত হয়েছিল ১৪৪ ধারা। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভায় ১৪৪ ধারা না ভাঙারই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু পরদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সমবেত বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৪৪ ধারা ভেঙে ১০ জনের এক একটি দল মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায় সামনের দিকে। কণ্ঠে সবার স্লোগান: রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। পুলিশ বাধা দেয় সে মিছিলে। শুরু হয় লাঠিপেটা, টিয়ার গ্যাস। এবং একসময় গুলি। গুলিতে লুটিয়ে পড়েন রফিক, বরকত, জব্বার, সালামসহ অনেকে। ঢাকায় পরপর আরও দুই দিন রক্ত ঝরে।
একুশের আত্মত্যাগের পর আর বাংলা ভাষার দাবিকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকেরা। বাঙালির এর পরের ইতিহাস ধারাবাহিক সংগ্রাম আর বিজয়ের, যার চূড়ান্ত অর্জন স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়।
প্রত্যেক জাতিকে তাদের মাতৃভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় সচেতন করে তুলতে একুশে ফেব্রুয়ারিকে বেছে নিয়েছে জাতিসংঘ। এবার একাদশ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিনটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘সংস্কৃতির পুনর্বন্ধন’। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেসকো) ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে ঘোষণা করে।
রক্তরাঙা ফুলে শোধ রক্তের ঋণ: ফেব্রুয়ারি এলেই লাল পলাশ ফোটে। সেই রঙের দীপ্তিতে বাঙালি যেন নতুন করে নিজেকে চিনে নেয়। ফাল্গুনের হু হু বাতাস মনে করিয়ে দেয় ভাষাশহীদের স্মৃতি। গত রাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা পেরোবার সঙ্গে সঙ্গে সবার গন্তব্য হয়ে উঠেছে শহীদ মিনার। সব কণ্ঠে বেজে উঠেছে একটিই গান...আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি..। শহীদ মিনারগুলো ফুলে ফুলে ছেয়ে যেতে শুরু করবে মধ্যরাত থেকেই।
বাণী: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণীতে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। বাণী দিয়েছেন ইউনেসকোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভাও।
Comments (0)Add Comment

Write comment
You must be logged in to post a comment. Please register if you do not have an account yet.

busy