Bangla Blog

Sunday
Sep 05th
Home kaler-kantha পাহাড়ে সহিংসতার মূলে জমির মালিকানা প্রশ্নবিদ্ধ ভূমি কমিশন

পাহাড়ে সহিংসতার মূলে জমির মালিকানা প্রশ্নবিদ্ধ ভূমি কমিশন

User Rating: / 0
PoorBest 
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি-বাঙালি বিরোধের মূলে আছে ভূমি নিয়ে বিরোধ। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ পর্যন্ত ১১টি সংহিস ঘটনা ঘটেছে পাহাড়ে। সব শেষ গত শনিবার রাঙামাটির বাঘাইছড়ির বাঘাইহাটে গোলাগুলিতে অন্তত দুজন পাহাড়ি নিহত হন। পোড়ানো হয় পাহাড়ি ও বাঙালিদের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক বিশ্লেষকরা বলেছেন, সরকার ভূমি সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হওয়ায় একের পর সহিংস ঘটনা ঘটছে। শান্তিচুক্তির পরের বছর ১৯৯৮ সালে গঠন করা হয়েছিল ভূমি কমিশন। এত বছরেও প্রতিষ্ঠানটি সক্রিয় হয়ে ওঠেনি। শান্তিচুক্তিতে বলা হয়েছিল, ওই অঞ্চলের ভূমির ওপর স্থায়ী বাসিন্দা পাহাড়ি ও বাঙালিদের একক অধিকার থাকবে। কিন্তু প্রশাসনিক ভূমিকার অভাবে বহু আদিবাসী পাহাড়ি ও নতুন করে বসতি স্থাপনকারীদের অনেকেরই জমির ওপর আইনি দখলিস্বত্ব এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সংকটের অন্যতম কারণ এটিই। ফলে সহিসংতা মিটছে না। ভূমি কমিশন গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পাহাড়ে জায়গা-জমির বিরোধ নিষ্পত্তি করা। বিশ্লেষকদের মতে, ভূমি কমিশন সক্রিয় হলে বিরোধ অনেকাংশেই এড়ানো যেত। শান্তিচুক্তির সঙ্গে ভূমি কমিশনের কিছু কিছু বিষয়ের বিরোধ রয়েছে বলেও তারা দাবি করেছেন। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত মোট ১১টি সংহিস ঘটনা ঘটেছে পাহাড়ে। পাহাড়ি-বাঙালি সশস্ত্র সংঘাতে আদিবাসী পাহাড়িরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত সাতজন পাহাড়ি, নিখোঁজ হয়েছেন চারজন, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১৬ আদিবাসী নারী। পাহাড়ি ও বাঙালির আট শরও বেশি ঘরবাড়ি হিংসার অনলে ছাই হয়। আহত ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে অসংখ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি বাঘাইছড়ির বাঘাইহাটে নতুন করে বসতিস্থপানকারী বাঙালিদের সহিংসতার জের ধরে পরদিন সেখানে বাঙালিদের সাতটি বাড়িতে অগি্নসংযোগ করা হয়। হামলার আশঙ্কায় ভাইভাইছড়া, এমএসপাড়া ও হাজাছড়ার তিনটি পাহাড়ি গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়ে। ২০০৮ সালের ২০ এপ্রিলও অজ্ঞাত পরিচয় সন্ত্রাসীরা একই এলাকার গঙ্গারামমুখের বাঘাইহাট নার্সারি এলাকায় সাতটি গ্রামে আগুন দিয়ে ১৩২টি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এতে ধ্বংস হয় বাঙালিদের ৭৯টি এবং পাহাড়িদের ৫৩টি ঘরবাড়ি। ২০০৬ সালের ৩ এপ্রিল মাইসছড়িতে প্রায় একশ পাহাড়ির বাড়িঘর তছনছ ও লুটপাট হয়। ২০০৩ সালের ২৬ আগস্ট মহালছড়িতে সংঘাতে নিহত হন দুজন পাহাড়ি, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হন ১০ আদিবাসী নারী। আহত হন প্রায় ৫০ জন। এ ছাড়া ২০০৩ সালের ১৯ এপ্রিল ভুয়াছড়া, ২০০২ সালের ১০ অক্টোবর রাজভিলা, ২০০১ সালের ১৮ মে বোয়ালখালী ও মেরুং, একই বছর ২৫ জুন রামগড়, ১৯৯৯ সালের ১৬ অক্টোবর বাবুছড়া, ১৯৯৯ সালের ৪ এপ্রিল বাঘাইহাটে সহিংসতা হয়েছে। এর মধ্যে বাবুছড়ার সহিংসতায় তিনজন পাহাড়ি নিহত হন, ধর্ষিত হন এক আদিবাসী নারী। পাহাড়ের একাধিক সূত্র জানায়, ভূমি কমিশন ১২ বছরেও সক্রিয় না হওয়ায় বেআইনিভাবে ভূমির ইজারা ও বন্দোবস্ত দেওয়ার অসংখ্য ঘটনা ঘটছে। গত বছর আগস্টেই সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পাহাড়ে প্রায় ১২ হাজার একর জমি বেআইনিভাবে ইজারা ও বন্দোবস্ত দেওয়ার ঘটনা শনাক্ত করে। গত সেপ্টেম্বরে বান্দরবানে প্রায় সাড়ে আট হাজার একর এ ধরনের জমির ইজারা ও বন্দোবস্ত বাতিল করা হয়। সূত্র জানায়, শান্তিচুক্তির ৫ নম্বর শর্তানুযায়ী একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে চেয়ারম্যান করে ১৯৯৮ সালে গঠন করা হয় নয় সদস্যের পার্বত্য ভূমি কমিশন। কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন_চাকমা, বোমাং ও মং সার্কেল চিফ (রাজা), পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান অথবা তার একজন প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার অথবা একজন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার এবং বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের তিনজন চেয়ারম্যান। কিন্তু কমিশন এখনো আইনি সীমাবদ্ধতা, অর্থ ও লোকবল সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। দফায় দফায় কমিশনের কাঠামোর রদবদল হয়েছে মাত্র। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সব শেষ বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীকে চেয়ারম্যান করে গঠিত হয় নতুন ভূমি কমিশন। খাগড়াছড়িতে এর সদর দপ্তর এখনো নির্মাণাধীন। অন্য দুই জেলা রাঙামাটি ও বান্দরবানে এর সাব অফিসের তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। যোগাযোগ করা হলে ভূমি কমিশনের সদস্য ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা মারমা কালের কণ্ঠকে বলেন, কমিশনের যথাযথ আইনি ক্ষমতা ও লোকবল নেই। তাই এটি এখনো পাহাড়ি-বাঙালিদের ভূমির বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারছে না। ভূমি গবেষক, জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা মঙ্গলকুমার চাকমা বলেন, ভূমি কমিশন আইনের সঙ্গে শান্তিচুক্তির ১১টি বিরোধাত্দক বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে কমিশনের সীমিত কার্যপরিধি ও কমিশন চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতা অন্যতম। তিনি বলেন, ভূমি কমিশন সক্রিয় না হওয়ার ফলে পাহাড়ে দিন দিন জমির বিরোধ বাড়ছে। পাহাড়ে নতুন করে বসতিস্থাপনকারী বাঙালিদের সঙ্গে আদিবাসী পাহাড়িদের দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগেই আছে। তিনি বলেন, গত আশির দশকে সরকারি উদ্যোগে পাহাড়ে ঢালাওভাবে বাঙালিদের অভিবাসন করা হয়। সেই অভিবাসীদের পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সমতল ভূমিতে সন্মানজনক পুনর্বাসন করা যেতে পারে বলেও তিনি পরামর্শ দেন। মঙ্গল কুমার চাকমা আরো বলেন, শান্তিচুক্তির মৌলিক শর্তগুলো যথাযথ বাস্তবায়ন করলেই ভূমি কমিশন ও শারণার্থী পুনর্বাসনবিষয়ক টাস্কফোর্স সক্রিয় করা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। আদিবাসীবিষয়ক গবেষক ও তথ্য কমিশনার অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, শান্তিচুক্তির মৌলিক শর্তই হচ্ছে পার্বত্য ভূমি সমস্যার সমাধান। শান্তিচুক্তির এই শর্তটি মেনে ভূমি কমিশনকে কার্যকর করা হচ্ছে না বলে পাহাড়ে জমির বিরোধ বাড়ছে। ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি এবং ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল বলা হলেও নতুন করে বসতি স্থাপনকারী বাঙালিদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ফলে সেখানে পাহাড়িদের সঙ্গে বাঙালিদের জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং অভিযোগ করেন, সরকারের উদাসীনতার কারণে এত বছরেও পাহাড়ে ভূমি কমিশন সক্রিয় হয়নি। শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি ভূমি কমিশন ও আঞ্চলিক পরিষদকে শক্তিশালী করার কথাও বলেন তিনি। দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন বাংলাদেশের ১০ ভাগের একভাগ। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান_এই তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে বিন্যস্ত পাঁচ হাজার ৯৩ বর্গমাইল এলাকার পার্বত্যাঞ্চলে পাহাড়ি-বাঙালি মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ লোক বাস করেন।
Comments (0)Add Comment

Write comment
You must be logged in to post a comment. Please register if you do not have an account yet.

busy
 

ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রীর ‘শিক্ষা’ কাজে লাগাবে বিএনপি— প্রধান বিরোধী দলের এই মনোভাব সমর্থন করেন কি?

কিবোর্ড নির্বাচন করুন

ইনস্ক্রিপ্ট
ইউনিজয়
প্রভাত
ফনেটিক
ফনেটিক ইন্ট.
English

ব্যাবহারিক লগইন ফর্ম

কে অনলাইনে আছেন

আমাদের এখন 8 জন অতিথি অনলাইনে আছেন