কমল দে, আবু দাউদ ও জাকির হোসেন, বাঘাইছড়ি থেকেভূমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে শনিবার রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে বাঙালি ও পাহাড়িদের মধ্যে গোলাগুলি, অগি্নকাণ্ড ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আদিবাসী নিহত হওয়ার ঘটনায় পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার গতকাল রবিবার বাঘাইছড়ি গেলে আদিবাসীরা তাঁকে দফায় দফায় অবরোধ করে। তারা স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম হুমায়ুন কবীরকেও লাঞ্ছিত ও তাঁর সরকারি গাড়িটি ভাঙচুর করেছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতেই এসব ঘটনা ঘটে।
তিন পার্বত্য জেলা থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার, গুম হওয়া লাশ ফেরত, ক্ষতিপূরণ ও অবৈধ দখলে চলে যাওয়া জমি ফেরত দেওয়ার দাবিতে আদিবাসীরা প্রতিমন্ত্রীর সামনে বিক্ষোভ করে।
গতকাল লক্ষ্মী বিজয় চাকমা (৪০) নামে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আগের দিন বুদ্ধ পুদি চাকমা নামের এক আদিবাসী নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল।
দফায় দফায় তোপের মুখে দীপংকর তালুকদার
প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বিশাল গাড়িবহর নিয়ে গতকাল সকালে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট এলাকায় আসেন। তিনি বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বঙ্গলতলীর বটতলী এলাকায় এলে নয়াপাড়া গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা কয়েক শ আদিবাসী নারী-পুরুষ তাঁকে ঘিরে ধরে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে। প্রতিমন্ত্রী তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ লোকজন 'পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করো, করতে হবে' বলে স্লোগান দিতে থাকে। গুলি ও আগুনের ঘটনার জন্য তারা নিজস্ব ভাষায় উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাদের দোষারোপ করতে থাকে।
আদিবাসীদের দাবির সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করে প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, 'আমিও আপনাদের সঙ্গে একমত। যারা এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান ও খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুইথি কার্বারী, বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা, দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ধর্মবীর চাকমা, সেনাবাহিনীর বাঘাইহাট জোনের কমান্ডার লে. কর্নেল ওয়াসিমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আদিবাসীদের মুহুর্মুহু স্লোগানের মুখে প্রতিমন্ত্রী সেখান থেকে দ্রুত চলে যেতে চাইলে উপজাতীয় তরুণরা রাস্তায় শুয়ে পড়ে তাঁর গাড়ির বহর আটকে দেয়। নিরুপায় হয়ে প্রতিমন্ত্রী কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর আদিবাসীরা শনিবার গুলিতে নিহত লক্ষ্মী বিজয় চাকমার লাশ তাঁর সামনে এনে রাখে। লাশসহ প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে রেখে আদিবাসীরা পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবিতে আবার স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও সেনাসদস্য উপস্থিত থাকলেও তাঁরা কোনো অ্যাকশনে যাননি।
সেখানে উপস্থিত বাঘাইছড়ি উপজেলার চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা বলেন, 'সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে অনেক লাশ গুম করে ফেলেছে। সব লাশ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি পুরো এলাকা থেকে ১৪৪ ধারা তুলে নিতে হবে।' উপজেলা চেয়ারম্যানের দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দিলে আদিবাসীরা ব্যারিকেড তুলে নেয়। প্রতিমন্ত্রী সেখান থেকে দুপুর সোয়া ১২টায় গঙ্গারামমুখে গেলে দ্বিতীয় দফায় ব্যারিকেডে পড়েন। এখানে গঙ্গারাম ও রেতকাপামুখ এলাকার আদিবাসীরা সেনাসদস্যদের বিচারের দাবিতে প্রতিমন্ত্রীকে ১৫ মিনিট অবরোধ করে রাখে। পরে মন্ত্রী বিচারের আশ্বাস দিয়ে সেখান থেকে মুক্ত হন। এ সময় বিক্ষুব্ধ আদিবাসীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম হুমায়ুন কবীরের গাড়ি লক্ষ্য করে জুতা ছুড়ে মারে।
তবে প্রতিমন্ত্রীর বহরকে সবচেয়ে বড় ব্যারিকেডে পড়তে হয়েছে বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে হাজাছড়া এলাকায়। সেখানে হাজাছড়া ও ভাই ভাই ছড়ার কয়েক শ বাসিন্দা আগুনে পুড়ে যাওয়া তাদের বিভিন্ন মালামাল নিয়ে রাস্তার ওপর বসে যায়। এ সময় তারা ঘটনার জন্য ইউএনও এ এস এম হুমায়ুন কবীরকে খোঁজ করতে থাকে। প্রতিমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে তাদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ আদিবাসীরা কিছুটা পেছনে এসে ইউএনও এ এস এম হুমায়ুন কবীরের গাড়ির ওপর হামলা চালায়। লক্ষ্মী বিজয় চাকমার লাশবাহী জিপ দিয়ে ইউএনওর গাড়ি আটকে তারা ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি তাঁকে লাঞ্ছিত করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
১০ নম্বর ক্যাম্প টিলা এলাকায় আসার পর প্রতিমন্ত্রীর পরামর্শে ইউএনও অন্য একটি গাড়িতে করে সেখান থেকে চলে আসেন। বেলা সোয়া ২টার দিকে সাজেক ইউনিয়ন কার্যালয়ে আসার পর প্রতিমন্ত্রীকে এবার বাঙালিরা অবরোধ করে। পরে তিনি সাজেক ইউনিয়ন কার্যালয়ে গিয়ে উপস্থিত সবার উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলেন ইউএনও
গুলি ও অগি্নসংযোগের ঘটনার পেছনে উপজেলা প্রশাসনের ইন্ধন রয়েছে বলে আদিবাসীদের পক্ষে করা অভিযোগ প্রসঙ্গে বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম হুমায়ুন কবীর গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, 'যারা এই অভিযোগ করেছে, এটা তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের কাজে ইন্ধন জোগানোর কোনো সুযোগ নেই।' তাঁর ওপর হামলার ঘটনায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এখনো মামলা দায়েরের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কারো সঙ্গে এ ব্যাপারে আমার কথাও হয়নি। আমি বর্তমানে রাঙামাটি সদরে অবস্থান করছি।'
দোকানপাট খোলেনি, যানবাহন চলেনি
গতকালও স্থানীয় বাজার ও দোকানপাট বন্ধ ছিল। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা, বাঘাইছড়ি, মারিশ্যা কিংবা সাজেকসহ আশপাশের এলাকায় কোনো গাড়ি চলাচল করেনি। সরেজমিন ঘুরে বিক্ষুব্ধ আদিবাসী নারী-পুরুষ ও তরুণদের সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। তবে সেখানে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। আর গঙ্গারাম, সীমানাছড়া, রেতকাপাপাড়া এলাকায় কোনো বাঙালিকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আদিবাসীরা জানিয়েছেন, শনিবার সকালের পর থেকে সেনাবাহিনী বাঙালিদের সেখান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।
পাঁচ দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি
বাঘাইহাট ঘটনার প্রতিবাদে আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলো পাঁচ দিনের কর্মসূচি দিয়েছে। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক এবং নৌপথে অবরোধের ডাক দিয়েছে। এ ছাড়া আজ সোমবার কালো ব্যাজ ধারণ, বিভিন্ন স্থানে কালো পতাকা উত্তোলন, ২৪ তারিখ প্রদীপ প্রজ্বালন, ২৫ তারিখ স্কুল-কলেজ বয়কট এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়িতে গণপ্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গতকাল সকালে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এম এন লারমা চত্বর থেকে মিছিল বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, বহিরাগত বাঙালিদের অন্যত্র পুনর্বাসন, জুম্মদের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানান। সমাবেশে বক্তব্য দেন আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য সুধাসিন্ধু খীসা, প্রত্যয় চাকমা, সমীর চাকমা প্রমুখ।
মামলা হয়নি, আটক ৬ পাহাড়ি যুবক
বাঘাইহাটের ঘটনা তদন্তে গতকাল পর্যন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। থানায় কোনো মামলা দায়েরও হয়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে সেনাবাহিনীর হস্তান্তর করা ছয় আদিবাসী যুবককে আটক দেখিয়েছে পুলিশ।
বাঘাইছড়ি থানার ওসি নাইম উদ্দিন আহমদ বলেন, 'এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে মামলা প্রক্রিয়াধীন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা লিটন চাকমাসহ আহত ছয় পাহাড়ি যুবককে আটক করে পুলিশকে দিয়েছে। বর্তমানে আটক ব্যক্তিদের চিকিৎসা চলছে। কেউ এজাহার দিলে খুন, অগি্নসংযোগ ও হামলার ঘটনায় পৃথক কয়েকটি মামলা হবে।'
রাঙামাটি জেলা বিএনপির উদ্বেগ
রাঙামাটি থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, বাঘাইহাট এলাকায় পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় রাঙামাটি জেলা বিএনপি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
গতকাল দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বলেছেন, বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম না হওয়ায় এ ধরনের নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা এলাকায় সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে ওই এলাকাসহ সমগ্র পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়কে সহনশীল মনোভাব প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতির নেতৃত্বে ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ৫ দফা দাবি
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সংঘটিত পাহাড়ি-বাঙ্গালী সংঘর্ষের বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং বাঘাইছড়ি থেকে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারসহ সরকারের প্রতি পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও পাহাড়ি শ্রমিক কল্যাণ ফোরাম নেতৃবৃন্দ। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে গতকাল অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, পলিটেকনিক্যাল শাখা এবং পাহাড়ি শ্রমিক কল্যাণ ফোরামের যৌথ উদ্যোগে নগরীর বটতলী রেল স্টেশন চত্বর থেকে বিকেল ৫টায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাব চত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা পার্বত্য তিন জেলায় অবিলম্বে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, বাঘাইছড়িতে সেনাবাহিনী ও বাঙালি সেটেলারদের হাতে আহত আদিবাসীদের চিকিৎসা সুবিধা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাহাড়ি ছাত্রনেতারা বাঘাইছড়ি থেকে সেটেলারদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়ারও দাবি জানান।
তাপস চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইন্তু মনি তালুকদার, সুপ্রিম চাকমা, রোমেল চাকমা, থোয়াইন চাকমা প্রমুখ। সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জিনবোধি থেরো ও ড. ধর্মবংশ ভিক্ষু।