মাইকে ঘোষণা দিয়ে রোববার শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ফেচুয়ামারা গ্রামে দু’দল গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। আহতদের শাহজাদপুর, বেড়া ও সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পূর্ববিরোধের জের ধরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ২ বছর আগে শাহিন নামের এক যুবক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে খুন হয়। এ খুনের এজহারভুক্ত আসামিরা সম্প্রতি জামিনে ছাড়া পেয়ে গ্রামে ফিরে আসে। এরপর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গতকাল সকালে মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করে ইমান গ্রুপ ও নান্নু গ্রুপের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ বাধে। এ সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষই লাঠি, ফালা, ছলঙ্গা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালয়। এ সময় পুরো গ্রামটি রণক্ষেণে পরিণত হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে ২ ঘণ্টাব্যাপী হামলা, সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭টি বাড়ি ভাংচুর করা হয়। এছাড়া ধান, চালসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়। সংঘর্ষে আহতরা হল- খালেক, শাহিন, বাবু মণ্ডল, সাইদুল, শামীম, আনোয়ার হোসেন, এনতাজ আলী, আলম, কাদের, নান্নু, সাঈদ, জুলফিকার, ফরহাদ আলী, মতিন, গিয়াস, ইমান আলী, গোলাম, তাসিদ, শুকুর, সাঈদ, রূপজান বেগম, মিনি খাতুন, ওহাব আলী, অস্তান মণ্ডল, লাইলি বেগম, আমেনা, রহিমা বেগম প্রমুখ। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছে মৃদু লাঠিচার্জ করে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষেই শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে। আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।