বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় শান্তি রক্ষার স্বার্থে সেনা অবস্থান জরুরি। তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত বাঙালি ও পাহাড়ি উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত না হয়; ততক্ষণ পর্যন্ত সেনাবাহিনী সেখানে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে। তাই আমরা শুরু থেকেই পার্বত্য এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিরোধিতা করেছিলাম। সেখানে বসবাসকারী সাধারণ জনগণও সেনা প্রত্যাহার চায়নি। কারণ সেনা প্রত্যাহার হলে সেখানে বিশৃংখলা সৃষ্টি হতে পারে বলে জনগণের আশঙ্কা ছিল। শেষ পর্যন্ত জনগণের আশঙ্কাই সত্যি হল। রোববার উত্তরায় নিজ বাসায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। শনিবার পাহাড়ে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের কারণেই সেখানে আজ এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। বাঘাইছড়ির ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানকার জনগণ এখন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছে। কিন্তু আমরা আগেই বলেছিলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি স্পর্শকাতর এলাকা। সব মহলের সঙ্গে আলোচনা না করে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করা ঠিক হবে না। এমনকি শান্তি চুক্তির পরও আমরা বলেছিলাম, ওই চুক্তি সবার সঙ্গে আলোচনা করে পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। না হলে ওই এলাকায় বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে ভারসাম্য থাকবে না। কিন্তু সরকার কারও সঙ্গে আলোচনা করেনি। যে বাস্তবতায় সেখানে সহিংস ঘটনা ঘটে চলছে। তিনি অবিলম্বে সেখানকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। ফখরুল বলেন, আমরা এ ঘটনায় শঙ্কিত ও গভীরভাবে মর্মাহত। আশা করি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সেখানে ব্যবস্থা নেবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, মহাজোট সরকার বিরোধী দলীয় নেত্রীকে তার প্রাপ্য সম্মান দিচ্ছে না। একুশের রাতে শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার সময় তাকে যথাযথ প্রটোকল দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি অনুসরণ করা উচিত। কিন্তু এ সরকার তা করছে না। ফখরুল বলেন, বিশ্ববিদ্যলয় কর্তৃপক্ষ বিরোধী দলীয় নেতার প্রতি উদ্দেশ্যমূলকভাবে অশ্রদ্ধা দেখিয়েছে। এটা নিন্দনীয়।