যুগান্তর রিপোর্ট
জনসংখ্যার অবস্থানের ভিত্তিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাওয়ারি যে পদ বিতরণের কোটা আছে, তা সতের বছর পর সংশোধন করা হয়েছে। গত মাসে সরকার এ কোটা সংশোধন করে। তবে কোটা সংশোধনের ক্ষেত্রে এবারও সরকার ১০ বছর পিছিয়ে আছে। এতদিন ১৯৯১ সালে করা আদমশুমারিকে ভিত্তি ধরে জেলা কোটা নির্ধারণ করা হতো। ১৯৯৩ সালে সর্বশেষ জেলা কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন জেলা কোটা নির্ধারিত হবে ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী। ওই আদমশুমারি অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ১২ কোটি ৩৮ লাখ ৫১ হাজার। অর্থাৎ সরকার এখন যে জেলা কোটা অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাবে, তাও ১০ বছরের আগের তথ্য অনুযায়ী। ২০০১ সালের আদমশুমারির মেয়াদ প্রায় শেষ। নিয়মানুযায়ী ১০ বছর পরপর আদম শুমারি করতে হয়। সে অনুযায়ী ২০১১ সালে আদমশুমারি করার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। এরই মধ্যে রংপুরে নতুন আরেকটি বিভাগও হয়েছে। দেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি ছাড়িয়ে গেছে বলে বিভিন্ন হিসাবে বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু এসব পরিবর্তনের কোন প্রতিফলন নেই সরকারি কাজে। গত বছর ২০ ডিসেম্বর সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ সালের ২১ মার্চ সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৯৯১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী জেলাওয়ারি পদ বিতরণের শতকরা হার জারি করা হয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে ২০০১ সালের আদমশুমারির প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় এবং বিভিন্ন জেলায় জনসংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটায় জেলাওয়ারি পদ বিতরণের সংশোধনের প্রয়োজন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ২১ মার্চ, ১৯৯৩ সালের পরিপত্র বাতিল করে ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলার জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলাওয়ারি পদ নির্ধারণ করা হবে। সংশোধিত কোটা নীতি অনুযায়ী ঢাকা বিভাগের ১৭টি জেলার জন্য সরাসরি নিয়োগে কোটা থাকবে ৩১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় ১৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলায় ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ৬ দশমিক ৫৯ এবং সিলেট বিভাগের চার জেলায় ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, জেলাওয়ারি কোটা বিন্যাসে ঢাকা জেলায় সর্বাধিক ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ পদ সংরক্ষণ করা যাবে। এরপরই চট্টগ্রামে ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ কোটা রয়েছে। সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৪ শতাংশ কোটা রয়েছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের জন্য। এরপর আছে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে দশমিক ৪২ শতাংশ।