Sunday, Feb 05th

Last update11:25:54 AM GMT

You are here: jugantor সম্প্রসারণমুখী বাজেট আসছে : বিনিয়োগ বাড়বে সরকারের

সম্প্রসারণমুখী বাজেট আসছে : বিনিয়োগ বাড়বে সরকারের

E-mail Print PDF
User Rating: / 0
PoorBest 
সাজ্জাদ আলম খান আগামী অর্থবছরের বাজেট হবে ‘সম্প্রসারণমুখী’। অর্থ বিভাগ মনে করে, কিছুটা সম্প্রসারণমুখী বাজেট হলেও উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন, দ্রুত দারিদ্র্য নিরসন, বিশ্বমন্দা মোকাবেলা ও দেশী-বিদেশী অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ব্যবস্থাকে যথাযথ বিবেচনা করা হচ্ছে। আর প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আগামী বাজেটে বাড়বে বিনিয়োগ। অগ্রাধিকার পাবে বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাত। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীমূলক কর্মসূচিতে সরকারি বরাদ্দ বাড়বে। এদিকে আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কৃত্রিম বিভাজন থাকছে। বিভাজন দূর করার ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেই সরকারের। অর্থ বিভাগ ও পরিকল্পনা বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে বিদ্যুৎ, অবকাঠামো নির্মাণ, নদী খনন, পদ্মা ব্রিজ নির্মাণ, জলবায়ু সহিষ্ণু প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়বে। আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মসূচি তৈরির কাজ শুরু করেছে পরিকল্পনা বিভাগ। সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক খসড়া হিসাব অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের বাজেটের মোট ব্যয় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি ৮১৯ কোটি থেকে কমে ১ লাখ ১০ হাজার ৮১৯ কোটি টাকায় দাঁড়াবে। আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে ৮৬ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর খাত থেকে আসার সম্ভাবনা রয়েছে ৭০ হাজার ৯শ’ কোটি টাকা। আর বাকি রাজস্ব আয়ের চিন্তাভাবনা রয়েছে করবহির্ভূত খাত থেকে। তবে সমন্বিত বৈঠক করে রাজস্ব আয়ের প্রাক্কলন চূড়ান্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেছেন, বাজেটকে সম্প্রসারণমুখী বলা যাবে কিনা, সে জায়গায় আমি যেতে চাই না। তবে বাজেটে খরচ বাড়বে। তিনি জানান, আগামী বাজেটে অগ্রাধিকার পাবে বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাত। সেই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীমূলক কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়বে। মাথাপিছু আর্থিক সুবিধার পরিমাণ যেমন বাড়বে, তেমনি বেষ্টনীর আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যাও বাড়বে। সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে। সংশোধিত হিসাবে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ৩১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। জাতীয় বাজেট ঘোষণার সময় ঘাটতি ধরা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। জাতীয় বাজেটের ‘কৃত্রিম বিভাজন’ দূর করার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী সংস্থা বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শ রয়েছে। তবে আগামী বছরের জাতীয় বাজেটেও এ বিভাজন থেকেই যাচ্ছে। পরিকল্পনা সচিব হাবিব উল্লাহ মজুমদার জানান, এখন আর বাজেটে আগের মতো বিভাজন নেই। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি তৈরি করে দেয়া হয়। তবে বিভাজন দূর করতে হলে দায়িত্ব নিতে হবে অর্থ মন্ত্রণালয়কে। সরকারের অর্থ বিভাগ মনে করে, জাতীয় বাজেট একীভূত হলে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে সরকারের কৌশলগত উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়তা করবে। দূর করবে বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সমন্বয়হীনতা ও দ্বৈততা। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ব্যয়ের প্রকৃতি বুঝতে বাজেট ব্যয়কে বিভাজিত পর্যায়ে মূলধন ব্যয় ও আবর্তক ব্যয় দু’ভাবে দেখানো প্রয়োজন। অর্থ বিভাগ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পক্ষে। অর্থ বিভাগ বলছে, অভীষ্ট অর্জনের দৃষ্টিতে দেখলে বিভাজনের কৃত্রিমতা স্পষ্ট। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, বিদ্যালয় নির্মাণ উন্নয়ন বাজেটভুক্ত ধরা হয়। কিন্তু শিক্ষক ও শিক্ষা উপকরণ বাবদ ব্যয় অনুন্নয়ন বাজেটভুক্ত। কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। সরকারের মোট বরাদ্দের কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাজেটের ৭৬ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে অনুন্নয়ন বাজেটের মাধ্যমে। অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় অনেক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।
Comments (0)Add Comment

Write comment
You must be logged in to post a comment. Please register if you do not have an account yet.

busy