যুগান্তর রিপোর্ট
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বদলির ঘটনা নিয়ে কারা প্রশাসনে অসন্তোষ বিরাজ করছে। কারা অধিদফতরের তালিকাকে পাশ কাটিয়ে একটি বিশেষ মহলের তদবিরে বদলি-বাণিজ্য হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, এই বদলির মাধ্যমে বিধিবিধান ভঙ্গ করা হয়েছে। সিনিয়রকে জুনিয়রের দায়িত্বে এবং জুনিয়রকে সিনিয়রের দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়াও একাধিক বিভাগীয় মামলায় শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পুনবার্সনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এই বদলির মাধ্যমে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, একশ্রেণীর কর্মকর্তা মন্ত্রণালয়ে তদবির করে এ অবস্থার সৃষ্টি করেছেন। আইজি (প্রিজন) কারা অধিদফতরের পক্ষ থেকে একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেন। কিন্তু ওই তালিকা পাশ কাটিয়ে একটি মহল বদলির মাধ্যমে সুবিধা আদায় করেছে। এ নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছে। সূত্র জানায়, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র সুপার টিপু সুলতানকে রাঙ্গামাটি জেলা কারাগারের সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। অথচ বগুড়া জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক শেখ আবদুল অমিতকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সিনিয়র সুপারের পদে বদলি করা হয়েছে। একইভাবে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের সুপার আজিজুল হককে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র সুপার পদে বদলি করা হয়েছে। তাদের চলতি দায়িত্বে বদলির আদেশ হলেও সিনিয়র কর্মকর্তাদের ওইসব দায়িত্ব দেয়া হয়নি। সূত্র জানায়, দুর্নীতির কারণে ২৬টি অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় মামলায় গুরুদণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও এই বদলি-বাণিজ্যের ফায়দা লুটেছেন। যাদের বাধ্যতামূলক অবসরের জন্য পিএসসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছিল, তারাও বহাল তবিয়তে পছন্দের পোস্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন। কারাগারে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে বসে মদপানের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এমন কর্মকর্তাও তার পছন্দের পোস্টিং পেয়েছেন বলে কারা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে কারা প্রশাসনের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি করে এ বিষয়ে বক্তব্য দেয়া যাবে না। তবে এ কথা সত্য, কারা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে এই বদলির বিষয়ে সমালোচনা উঠেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে ১৮ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র সুপার একেএম ফজলুল হককে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে, সিনিয়র সুপার টিপু সুলতানকে রাঙ্গামাটি জেলা কারাগারে, সিনিয়র সুপার পার্থ গোপাল বণিককে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে, সিনিয়র সুপার আলতাব হোসেনকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে, ছগির মিয়াকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে, শেখ আবদুল অমিককে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে (২), জেল সুপার কামাল হোসেনকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে, জেলার ফরমান আলীকে বগুড়া জেলা কারগারের তত্ত্বাবধায়ক, সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক অসিমকান্ত পালকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে, সুপার বজলুর রশিদকে খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে, মোকাম্মেল হোসেনকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে ও আজিজুল হককে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বদলি করা হয়েছে।