মেহেরপুর/গাংনী প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মাইলমারী পদ্ম বিলে গতকাল শনিবার মাছধরাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সেন্টু মিয়া (৩৫) নামে এক বিএনপিকর্মী নিহত এবং উভয়পক্ষের অন্তত ৩৪ জন আহত হয়েছে। সেন্টু ধলা গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে। গাংনী থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, মাইলমারী পদ্ম বিল নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। মালিকানা দাবিদার বিএনপি নেতা জাফর আলীর কাছ থেকে ধলা গ্রামের টুটুল ও মাইলমারী গ্রামের পলান বিলটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছে। এদিকে বিলটি খাস হিসেবে দাবি করে আওয়ামী লীগ নেতা নবির উদ্দীন ও
তার অনুগতরা শুক্রবার সকালে জোরপূর্বক মাছ ধরে। এ নিয়ে উভয়পক্ষে উত্তেজনা চলছিল। গতকাল সকালে লিজ গ্রহণকারী টুটুল ও পলানের নেতৃত্বে শতাধিক লোক বিলে মাছ ধরতে গেলে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষ ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে আওয়ামী লীগ সমর্থক ১১ এবং বিএনপি সমর্থক ২৩ জন আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সেন্টুকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেল্গক্সে নিলে
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। আহতদের মধ্যে বিএনপিকর্মী আজমাইন (৩৬), আমিরুল (৫৫) ও সেন্টুকে (৩৫) গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেল্গক্স এবং জাহারুলকে (৪৫) কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থক আজম (২৫) ও নাজমুলকে (৩৫) মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও আহতদের অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে বিএনপি সমর্থক আরশেদ আলীর বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট ও অগি্নসংযোগ করে। মেহেরপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে অর্ধলক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন আরশেদ আলী। এছাড়াও অপর বিএনপি সমর্থক আতিয়ারের বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। প্রবাসী আতিয়ারের স্ত্রী নাজমা দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের লোকজন হামলা চালিয়ে নগদ টাকা স্বর্ণালঙ্কারসহ অন্তত ৪০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে। সংবাদ পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো মুহূর্তে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে গাংনী থানার ওসি ছগির মিঞা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতা নবী মেম্বর জানান, বিএনপির লোকজন অবৈধভাবে মাছ ধরতে গেলে গ্রামবাসী প্রতিরোধ করে। ভাংচুর, লুটপাট ও অগি্নসংযোগের ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেউ জড়িত নয়।