সমীর কুমার দে/সাহাদাত হোসেন পরশ
পিলখানার দরবার হলেই বিডিআর সদস্যরা সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেছিল। নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করেছিল সেনা কর্মকর্তাদের। তাদের রক্তে ভেজা সেই দরবার হলেই ঘটনার এক বছরের মাথায় বিচারের মুখোমুখি হচ্ছে সেই দিনের বিদ্রোহী জওয়ানরা। দরবার হলে আদালত তৈরির কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এ আদালতেরও প্রধান বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মইনুল ইসলাম। গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিল এ বিদ্রোহ।
মেজর জেনারেল মইনুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বিডিআর জওয়ানদের বিদ্রোহের বর্ষপূর্তির আগেই পিলখানায় একটি আদালতে বিচারকাজ শুরু হচ্ছে। সেই হিসেবে আগামী ৪ দিনের মধ্যেই বিচারকাজ শুরু হবে। তবে কোন দিন শুরু হবে তা তিনি বলেননি। ইতিমধ্যে ঢাকার বাইরে চারটি আদালতে বিডিআর আইন অনুযায়ী বিদ্রোহের বিচারকাজ চলছে। আগামী
২ মে রাঙামাটিতে প্রথম রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ রয়েছে।
সূত্র জানায়, ঢাকায় বিদ্রোহের বিচার হবে দুটি আদালতে। একটি আদালত আগামী চারদিনের মধ্যে কাজ শুরু করছে। অপর আদালতটি বসবে নিউমার্কেট থানায় দায়ের করা মামলায় সিআইডির চার্জশিট দাখিলের পর। প্রথম আদালতে কতজনের বিচার শুরু হচ্ছে সে ব্যাপারে বিডিআর মহাপরিচালক সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। বিডিআর আইন অনুযায়ী বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে এবং সাক্ষীদের জবানবন্দির ওপর আসামি নির্ধারণ হয়ে থাকে। তবে আগে থেকেই কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে কথা বলে আসামির সংখ্যা ঠিক করেন।
সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, পিলখানা হত্যাযজ্ঞের মামলায় এ পর্যন্ত ২ হাজার ১৯৩ জন বিডিআর সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। মামলাটির তদন্তে সিআইডি হত্যা, লাশ গুম, অগি্নসংযোগ, ভাংচুর, লুটপাট ও ধর্ষণের অভিযোগে ৬ থেকে ৭শ' বিডিআর সদস্যের সম্পৃক্ততা পেয়েছে। সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন, এর বাইরে গ্রেফতারকৃতরা বিদ্রোহের মামলার আসামি হবেন। কারণ গ্রেফতারকৃতদের সবাই বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত ছিল। ফলে ঢাকায় বিডিআর বিদ্রোহের দ্বিতীয় আদালতে আসামির সংখ্যা হবে দেড় হাজারের মতো।
বিডিআরের কর্মকর্তারা ঢাকার বিচার শুরু করার জন্য দিনরাত কাজ করছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, ২৪ অথবা ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে ঢাকায় প্রথম বিচারের কাজ। এ আদালতে কতজন আসামি হচ্ছেন সে ব্যাপারে এক কর্মকর্তা বলেন, এখনও আসামি সুনির্দিষ্ট হয়নি। বিচার শুরুর আগের দিন নিশ্চিত হওয়া যাবে। ইতিমধ্যে এ মামলায় আসামি হতে পারে এমন সদস্যদের পৃথক করার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, গত নভেম্বরে প্রথম বিদ্রোহের বিচার শুরু হয় রাঙামাটিতে। এরপর সাতক্ষীরা, ফেনী এবং পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় বিডিআর বিদ্রোহের বিচারকাজ শুরু হয়। চারটি আদালতের অধীনে ৫টি জেলায় এ বিচার চলছে। একটি আদালতের অধীনে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় বিচার হচ্ছে। বিডিআর মহাপরিচালক জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে ওই সব আদালতের রায় ঘোষণা করা হবে। বিচারকাজ শেষ হতে ক'বছর লাগতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের বিচার নিয়ে সাংবাদিকরা যে ধারণা রাখেন তা প্রশ্ন দেখেই বোঝা গেল। বিচার শেষ হতে যে বছরের অধিক সময় লাগবে তা নিশ্চিত। কিন্তু কত বছর লাগতে পারে সে ব্যাপারে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। বিডিআর মহাপরিচালক বলেন, বাদী, আসামি ও সাক্ষীদের ওপরই নির্ভর করছে কত সময় লাগবে বিচার শেষ হতে।