Sunday, Feb 05th

Last update11:25:54 AM GMT

You are here: Home

প্রশিকার সাবেক চেয়ারম্যান কাজী ফারুকের বিরুদ্ধে কর্মীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা !!!

E-mail Print PDF

আন্দোলনের পটভূমি

২০০৪ সনে তদানন্তীন সরকার প্রশিকার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বৈদেশিক তহবিল অবমুক্তকরণ বন্ধ করে দেয়। এতে সংস্থার আর্থিক সংকট দেখা দেয়, এবং প্রশিকা পরিচালিত উন্নয়ন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। আর্থিক সংকটের কারণে প্রশিকার বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি ঐ সময়ে সারা বাংলদেশে  প্রশিকার প্রায় দুশো কর্মী-ব্যবস্থাপককে জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়।  তারপরও নিবেদিত র্কর্মী-ব্যবস্থাপকদের কঠোর পরিশ্রমে প্রশিকার অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধি করে তা দিয়ে সাফল্যের সাথে দারিদ্র্য বিমোচন তথা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে। বিগত একদশকে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কয়েক গুণ বেড়ে গেলেও ১৯৯৯ সালের পর প্রশিকার কর্মীদের বেতন স্কেল বাড়েনি। নিদারুন আর্থিক কষ্টের মধ্যেও সংস্থার কর্মী-ব্যবস্থাপকগণ স্বপ্ন দেখেছিলেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সরকার আসবে প্রশিকা আইনানুগভাবে তাদের সহায়তা পাবে। সংস্থার উন্নয়ন কার্যক্রম আবারও সম্পসারিত হবে। সেইসঙ্গে প্রশিকা বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনে আরো তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে সৰম হবে।

কিন্তু প্রশিকার গর্ভানিং বডির সাবেক চেয়ারম্যান কাজী ফারুক  আহম্মদের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং হঠকারী সিদ্ধানেৱর ফলে সংস্থা গভীর সংকটে পড়ে। ক্ষমতার মোহে অন্ধ কাজী ফারুক   আহম্মদ রাষ্ট্রীয় ৰমতার অংশীদারিত্ব পাওয়ার লক্ষ্যে ২০০৮ সনে জরুরি  অবস্থার মধ্যে ‘ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন’ নামের একটি রাজনৈতিক দল গড়েন। এ দল গড়তে গিয়ে প্রকারন্তে তিনি সম্পূর্ণ একক সিদ্ধান্তে প্রশিকাকে ‘ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন’ -এ পরিণত করেন। প্রশিকার কর্মী-ব্যবস্থাপকদের তীব্র বিরোধিতার পরেও তাদেরকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে সেই রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে বাধ্য করেন।

এরপর গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাজী ফারুক আহাম্মদ তিনটি এবং তার দলের ৬ জন সদস্য আরো ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। এ নির্বাচনে তিনি প্রশিকার জনবল, যানবাহন এবং অন্যান্য সম্পদ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন। এমনকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত প্রশিকার কর্মীদেরকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তিনি তার তিনটি নির্বাচনী এলাকায় আসতে, নির্বাচনের পুরো সময়ে সেখানে থাকতে এবং তার হয়ে প্রচারণায় অংশ নিতে বাধ্য করেন।  উক্ত নির্বাচনে তিনি যথারীতি শোচনীয পরাজয় বরণ করেন।
ক্ষমতার মোহে অন্ধ কাজী ফারুক আহম্মদ তার পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে মেনে না নিয়ে এর দায়দায়িত্ব সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে প্রশিকার কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দেন। তিনি মনে করেন তিনটি আসনেই তার জয়লাভ (!) অবশ্যাম্ভাবী ছিল। কিন্তু তা হয়নি কারণ প্রশিকার কর্মীরা তার নির্বাচনে ঠিকমতো (?) কাজ করেনি। বাস্তববিবেচনা বোধহীন কাজী ফারুক এখানেই ক্ষান্ত হলেন না। প্রতিহিংসা পূরণে তিনি কর্মীদের ২৫% বেতন কেটে রাখার উদ্যোগ নেন। একইসঙ্গে কর্মীদেরকে বাংলা নববর্ষের আর্থিক বোনাস (সংস্থার নিয়ম অনুসারে বছরে একটি ধর্মীয় বোনাস এবং বাংলা নববর্ষে একটি বোনাস দেওয়া হয়) না দেওয়ার ঘোষণা দেন। এক পর্যায়ে তিনি অন্যায়ভাবে প্রশিকার মাঠ পরিচালনের দায়িত্বে নিয়োজিত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপকদেরকে বেতন-ভাতা প্রদান না করার নির্দেশ দেন।
ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন নামের রাজনৈতিক দল গড়ে তোলার কাজে এবং তার নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপক সংখ্যক কর্মীদের ব্যস্ত থাকায় প্রশিকার ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের ৰতি হয়। তার পরাজয়ের পর তিনি এর দায়দায়িত্বও কর্মীদের ওপর বর্তান। এ ৰতি উক্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে ব্যস্ত থাকার জন্য নয়, কর্মীদের দায়িত্ব আবহেলার কারণে হয়েছে বলে তিনি তাদের কাছ থেকে একটি স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করেন।

কাজী ফারুকের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপের পাশাপাশি বিবেকবর্জিত এ অযৌক্তিক আচরণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ সংস্থার হাজার-হাজার কর্মী-ব্যবস্থাপককে বিক্ষুব্দ করে তোলে। কিন্তু প্রশিকার সুশৃঙ্খল কর্মী-ব্যবস্থাপকগণ কাজী ফারুকের এ অন্যায় আচরণ এবং সিদ্ধানৱ গ্রহণের প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি তাকে আলোচনায় বসে সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয়  এবং  সুষ্ঠু  সমাধানের  জন্য তখনকার ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহীর মাধ্যমে একাধিকবার লিখিতভাবে অনুরোধ করেন।  কিন্তু কাজী ফারুক সকল অনুরোধকে স্বৈরাচারী কায়দায় সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১০ জন ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন। এতে তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সকল স্তরের কর্মী-ব্যবস্থাপকদের ক্ষোভ আরো তীব্রতর হয়। এ পযর্যায়ে প্রশিকার সকল স্তরের কর্মী-ব্যবস্থাপকগণএকটি সভায় মিলিত হয়ে সকলের সম্মিলিত সিদ্ধান্তক্রমে প্রশিকার বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য ১৯ দফা দাবি উত্থাপন করেন। কিন্তু কাজী ফারুক কর্মীদের উত্থাপিত সকল দাবি উপেক্ষা করে অগঠনতান্ত্রিকভাবে গর্ভানিং এবং জেনারেল বডির অনুমোদন না নিয়ে  এককভাবে প্রশিকার ব্যবস্থাপনা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন এবং কিছু পদের বিলুপ্তি ঘোষণা করেন। একই সংঙ্গে তার এ ধরনের অগঠনতান্ত্রিক এবং অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় পরিচালক পর্যায়ে ১৩ জন ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপককে বদলী  করেন।
 
Normal 0

প্রশিকার সংকট কাটিয়ে তোলার জন্য কর্মীদের দাবীসমসূহ

 

  1. অযৌক্তিকভাবে বিনা অপরাধে দশজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারীর সমায়িকভাবে বরখাস্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
  2. অনৈতিক, অশোভনীয় বিশেষ উদেশ্য চরিতার্থের লক্ষ্যে  যে কুখ্যাত অঙ্গীকারনামায় ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের সাথে জড়িত কর্মী-ব্যবস্থাপকদের স্বাক্ষর চাওয়া হচ্ছে, তা প্রত্যাহার করতে হবে।
  3. অযৌক্তক, অবৈজ্ঞানিকপদ্ধতিতে বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বা কর্মী- ব্যবস্থাপকদের শোষণ এবং মানসিকভাবে নির্যাতনের জন্য যে মুল্যায়ন করা হয়েছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। সেইসাথে এই অযেক্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি বাতিল করে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কমিটি করে বাস্তবভিত্তিক যৌক্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করতে হবে।
  4. তথাকথিত মূল্যায়নের ভিত্তিতে ২৫% বেতন কর্তনের সিদ্ধান্ত অভিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
  5. সকল পর্যায়ের কর্মী, ব্যবস্থাপক, আপ্যায়ন কর্মী, গাড়ী চালকসহ সকলের বকেয়া বেতন -ভাতা হাল নাগাদ করতে হবে।
  6. দেশের জাতীয় পর্যায়ের অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থার এবং সরকারি বেতন কাঠামোর সাথে সংগতি রেখে নতুন বেতন কাঠামার ঘোষণা দিতে হবে।
  7. অন্যান্য উন্নয়নসংস্থার সাথে সংগতি রেখে প্রশিকার কর্মীদের দৈনিক ভাতা, যাতায়াত ভাতা বা যাবাহন সুবিধা দিতে হবে।
  8. সকল পর্যায়ের কর্মী-ব্যবস্থাপকদের জন্য বাড়ি নির্মাণ ঋণ, তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদান করতে হবে।
  9. সকল পর্যায়ের কর্মী-ব্যবস্থাপকদের সমান চিকিত্সা সুবিধা দিতে হবে।
  10. উদ্দেশ্যমূলকভাবে গঠিত ট্রাস্টগুলো ভেঙে দিয়ে সরাসরি প্রশিকার ব্যবস্থাপনায় আনতে হবে।
  11. কোন কর্মী, ব্যবস্থাপক বা চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য প্রশিকার অর্থ, কর্মী, স্থাপনা বা সুবিধাভোগীদেরকে ব্যবহার করাতে পারবেন না।
  12. কর্মীকল্যাণ তহবিলের অর্থ কোথায় গেল তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। এই তহবিলের অর্থ উদ্ধার করে তহবিল পুনর্গঠন করতে হবে।
  13. ব্যয় সংকোচনের জন্য লোকসানি খাতগুলো বন্ধ করতে হবে। পেডাগোজি স্কুল, ডিএসসিপি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
  14. গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশিকা চেয়ারম্যান কাজী ফারুক আহম্মদ নির্বাচন করতে গিয়ে ব্যবহৃত প্রশিকার লোকবল, স্থাপনা, যানবাহন ও অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ নিরুপনের জন্য একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং এ ব্যাপারে তাকে জবাবদিহি করতে হবে।
  15. কর্মীদের উসব ভাতা থেকে কর্তনকৃত ১০% অর্থ দিয়ে গঠিত সহমর্মিতা তহবিলের অর্থ কোথায় খরচ করা হলে। সিদ্ধান্ত ছিল গরিব ছাত্রদেরকে বৃত্তি প্রদান ও দুস্থ মানুষের চিকিত্সার জন্য ব্যয় করা হবে। কিন্তু বিগত কয়েক বছর যাবত এই তহবিলের অর্থ দ্বারা কোন বৃত্তি বা চিকিত্সা সাহায্য দেওয়া হয়নি কেন তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
  16. প্রশিকা চেয়ারম্যান প্রশিকার ভিভিন্ন নীতিমালা তার খেয়াল খুশিমত করেছেন। এই নীতিমালা বাতিল করে একটি কমিটি করে গণতান্তিক পদ্ধতিতে বাস্তবসম্মতভাবে সংস্থার নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
  17. প্রধান নির্বাহীর পদে একজন যোগ্য ব্যবস্থাপককে দায়িত্ব দিতে হবে এবং তাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
  18. যে সকল কর্মীরচাকুরি  ছেড়ে দিয়ে চলে গেছেন তাদের সাথে কোন ধরনের অসদাচরণ বা কুটকৌশলকরা যাবে  না। তাদের পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
  19. প্রশিকার সকল কর্মসূচিকে গতিশীল করার জন্য অবিলম্বে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি সনদ প্রাপ্তির ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।
  20. Normal 0

    সংকট দূর করার লক্ষ্যে প্রশিকার জেনারেল ও গভার্নিং বডির উদ্যেগ

     

    সংস্থার কর্মী-ব্যবস্থাপকদের পক্ষ হতে চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে প্রশিকার নবতর যাত্রা শুরুর  সকল প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ কাজী ফারুকের একগুয়েমি এবং স্বৈরাচারি মনোভাবের কারণে ব্যর্থ হয়ে যায়।

     

    এ অবস্থায় সংস্থার কর্মী-ব্যবস্থাপকগণ বিদ্যমান সংকট উত্তোরণের জন্য প্রশিকার জেনারেল বডির সদস্যদের সাথে ৩০ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। তাত্ক্ষণিকভাবে আয়োজিত এ সভায় ৫৪ জন সদস্যের মধ্যে ৩৬ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। উক্ত সভায় প্রশিকার চেয়ারম্যানের সকল অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছচারিতার তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন।   সেইসংঙ্গে চেয়ারম্যানের অযৌক্তিক ও স্বেচ্ছাচারি সিদ্ধান্তের কারণে সংস্থার নিয়মিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে যে অচলাবাস্থার সৃষ্টি হয়, তাও সভায় তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে প্রশিকার কর্মীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা না দেওয়া এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে কর্মীদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর আদায়ের    এবং   ২৫% বেতন কর্তনের হীন প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরা হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যগণ জানান যে, প্রশিকার বিদ্যমান এ সংকট সম্পর্কে তারা ভালোভাবে অবগত রয়েছেন।

     

    সভায় সদস্যগণ একমত হন যে, চেয়ারম্যান কাজী ফারুক আহম্মদ সরাসরি দলীয় রাজনীতির সাথে (ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন নামের রাজনৈতিক দল গঠন) যুক্ত হওয়ায় এবং বর্তমান সরকারের সাথে সুসম্পর্ক না থাকায় সংস্থা সরকারের কাছ থেকে সকল ধরনের সহায়তা লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সংঙ্গে উপস্থিত সকল সদস্য অনতিবিলম্বে চেয়ারম্যান সাহেবকে সাধারণ পরিষেদর একটি সভা ডাকার জন্য অনুরাধ করেন। এ ছাড়াও সভায় উপস্থিত গভার্নিং বডির সম্মানিত সদস্যগণকে চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রশিকার বিদ্যমান সংকট ও অচলাবাস্থা নিরসনের জন্য সভা আহ্বানেরঅনুরোধ করা হয়। জেনারেল বডির উল্লিখিত সভার সিদ্ধান্ত ছাড়াও  প্রশিকার সকল পরিচালকের পক্ষ হতে গভার্নিং বডির সদস্যদের নিকট সংস্থার উদ্ভুত সংকট সমাধানের জন্য লিখিত আবেদন করা হয়।

     

    কাজী ফারুক আলোচনার সকল পথ রুদ্ধ করে দেন

    জেনারেল বডির সদস্যদের সাথে মতবিনিময় এবং গভানিং বডির সদস্যদের কাছে পরিচালকদের লিখিত আবেদনের কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান কাজী ফারুক মাঠ পরিচালনের ৮ জন পরিচালক এবং ৬ জন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপকেক অন্যায় এবং অগঠনতান্ত্রিকভাবে চূড়ান্ত বরখাস্ত করেন।

     

    তার এহেন অন্যায়, অযৌক্তিক এবং অগঠনতান্ত্রিকসিদ্ধান্তের ফলে কর্মীদের ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। প্রশিকার কর্মী-ব্যবস্থাপকগণ তখন অনুধাবন করতে পারে যে, চেয়ারম্যান কাজী ফারুক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সংকটের উত্তোরণ চান না বরং প্রতিষ্ঠানটিকে সংকুচিত করে নিজের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করতে চান।  এ অবস্থা থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা এবং হাজার হাজার কর্মীদের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তাসহ লক্ষ লক্ষ উপকারভোগীদের উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে  চেয়ারম্যানের পদ থেকে কাজী ফারুক -এর অপসারণ ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। তাই প্রশিকার কর্মী-ব্যবস্থাপকগণ চেয়ারম্যান কাজী ফারুকের অপসারণের দাবি তুলেন, যা ১ দফা দাবি হিসেবে পরিচিতি পায়।

     

    প্রশিকার চেয়ারম্যান পদ থেকে কাজী ফারুক আহম্মদকে অপসারন

    উল্লিখিত পরিস্থিতিতে প্রশিকার গভর্নিং বডির ৭ জন সদস্য (৯ জনের মধ্যে) বিগত প্রায় দশ মাসের বেশি সময় ধরে গভার্নিং বডির সভা অনুষ্ঠিতনা হওয়ায় এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রশিকার অচলাবস্থা বিষয়ক নানা ধরনের তথ্য প্রচারিত হওয়ার প্রেক্ষিতে অনতিবিলম্বে অচলাবস্থসহ সার্বিক বিষয়ে  আলোচনার জন্য চেয়ারম্যান কাজী ফারুক আহম্মদকে'গভার্নিং বডির সভা' আহ্বানের জন্য লিখিতভাবে অনুরোধ করেন। কিন্ততিনি প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্রের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গভার্নিং বডির সদস্যদের এ লিখিত অনুরোধকে অগঠনতান্ত্রিকভাবে উপেক্ষা করেন। এতে একদিকে  সংস্থার সংকট গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে। অন্যদিকে কমীদের আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে। এ রকম গভীর সংকটময় অবস্থায় প্রায় ২ সপ্তাহ অপেক্ষার পর গভার্নিং বডির ৮ জন সদস্য ( মোট সদস্য ৯ জন। এর মধ্যে শুধুমাত্র কাজী ফারুক আহম্মদ অনুপস্থিত ছিলেন) এর উপস্থিতিতে সংস্থার ১০৫ তম সভা ২৪ মে ২০০৯ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়।

     

    সভায় ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য প্রশিকার জনবল  ও সম্পদ ব্যবহার  করে জনাব কাজী ফারুক আহম্মদ সংস্থার অপূরণীয় ক্ষতি করেছেন। একই সাথে তিনি সংস্থাকে যোগ্য নেতৃত্ব প্রদানে র্বর্থ হয়েছেন। ফলে আজকে প্রশিকার হাজার হাজার কর্মী তার প্রতি বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এবং সমগ্র সংস্থাটি কার্যত বিগত একমাস ধরে অচল হয়ে পড়েছে। তিনি যে শুধু সংস্থার ভাবমূর্তিই নষ্ট করেছেন তাই নয় এর ফলে সংস্থার অখন্ডতা হুমকির মুখে পড়েছে এবং এর অস্তিত্এখন বিপন্ন। এগুলোর জন্য জনাব কাজী ফারুক আহম্মদ দায়ী বলে উপস্থিত গর্ভানিং বডির সদস্যরা একমত। তাই প্রশিকার অখন্ডতা রক্ষা এবং প্রশিকার অস্তিত্বটিকিয়ে রাখার জন্য প্রশিকার গভার্নিং বডির  চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে জনাব কাজী ফারুক আহম্মদকে সর্বসম্মতিক্রমে অপসারিত করা হয়। একই সাথে গভার্নিং বডির অপর সদস্য জনাব এ্যাডভোকেট মো: আব্দুল ওয়াদুদের নাম চেয়ারম্যান পদে প্রস্তাব করা হলে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়।

Comments (0)Add Comment

Write comment
You must be logged in to post a comment. Please register if you do not have an account yet.

busy