Bangla Blog

Sunday
Sep 05th
Home আমাদের ব্লগ

বাংলা ব্লগ

আসুন বাংলায় ব্লগ লিখি
REF:  SOMEWHEREINBLOG.NET

প্রিয় প্রধানমন্ত্রী,
এই ঘোর দুর্দিনে যে চিঠিটি আপনাকে লিখছি, সেই চিঠির ভবিষ্যত নিয়ে আমি নিজেই শংকিত। সবে কারেন্ট এলো, ঝাড়া দু ঘন্টা পর। নিয়মানুযায়ী টানা দু ঘন্টা বিদ্যুত থাকার কথা। কিন্তু প্রায়ই নিয়মটির ব্যতয় ঘটছে। গতকাল কারেন্ট এসেছিলো, দশ মিনিট পর চলে গেছে, টানা তিন ঘন্টা পর আবার সেটি ফিরে এসেছে। এখন আর কারেন্ট যায়না, কদাচিৎ আসে। কাজেই এই চিঠি আদৌ শেষ করে উঠতে পারবো কিনা - আমার ঘোর সংশয় রয়েছে। এই চিঠি লেখার আরেকটি বিপদ রয়েছে। যাকে চিঠিটি লিখছি, মানে আপনি, আপনার হাতে চিঠিটি পৌঁছার সম্ভাবনা প্রায়ই শূণ্য। নামে আপনার সরকার ডিজিটাল সরকার, তবে বাংলা ব্লগ আপনি আদৌ পড়েন কিনা কিংবা বাংলা ব্লগ কমিউনিটি নামে যে একটি ব্যাপার রয়েছে, সেটি আপনি জানেন কিনা - এটি লাখ টাকার প্রশ্ন। পৃথিবীর যেকোনও সভ্য দেশে রাষ্ট্রপ্রধানকে উদ্দেশ্য করে কিছু লেখা হলে, সেটি নিশ্চিত রাষ্ট্রপ্রধানের কানে যায়। রাষ্ট্রপ্রধান ক্ষেত্রবিশেষে তার উত্তরও দেন। বছর খানেক আগে পত্রিকায় পড়েছিলাম, বাংলাদেশে কোনও কিশোরী আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্যে করে চিঠি লিখেছিল, রাষ্ট্রপ্রধান চিঠিটি পেয়েছেন এবং আরও আশ্চর্যের বিষয়-তিনি তার উত্তরও দিয়েছেন। আমাদের দেশে কখনও এইরকম ব্যাপার ঘটেছে বলে শুনিনি। হতে পারে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের চাইতেও আপনি বেশি ব্যস্ত। তবে এই কথা নিশ্চিত, যাদের দায়িত্ব আপনাকে এই খবরটি দেয়া যে, একজন ভুক্তভোগী নাগরিক আপনাকে চিঠি লিখেছে , তারা এই জাতীয় চিঠিটি কখনোই আপনাকে দেবেনা। তারা দেশের স্বার্থ যেমন বোঝেন- তার চাইতে বেশি বোঝেন নিজের স্বার্থ। কেউ আপনাকে নিয়ে প্রশস্তি রচনা করলে সেটি কত তাড়াতাড়ি আপনার হাতে পৌঁছে দেয়া যায়, সেটি নিয়েই তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় নিশ্চিত, কিন্তু এই জাতীয় চিঠি আপনাকে পৌঁছে দেবার ঝুঁকি কে নেবে ? যে চিঠি পাঠের স্বাদ আপনার তেতো মনে হতে পারে। জননেত্রীর সাথে জনগণের দূরত্ব কত গভীর হতে পারে- এইসব ঘটনা তারই প্রমাণ। আপনার যদি কোনও ইমেইল আইডি থাকতো, যেটি আমি নিশ্চিত হতাম যে আপনি মাঝে মধ্যে ইকবক্স চেক করে দেখেন , তাহলে এই চিঠিটি আমি আপনাকে নিশ্চিত মেইল করতাম। এতো প্রকার টানাপোড়েনের মধ্যেও আপনাকে চিঠিটি লিখছি আমার দুই শিশু কণ্যার মুখের দিকে তাকিয়ে। গতরাতে বিদ্যুত ছিলনা ওরা দুবোন সারারাত ছটফট করেছে। আমার বাসাটি বেশ দামি বাসা, এর ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা উত্তম, রুমের সাথে দক্ষিণমুখী বারান্দা। তবুও গরমে ওদের কষ্ট হয়েছে। যারা অপেক্ষাকৃত কম দামী বাসায় থাকেন, যারা বস্তিতে থাকেন, সেইসব বাবারা, সেইসব বাবাদের শিশুরা সারারাত কী নিদারুন যন্ত্রণায় রাত পার করেন, তাদের কথাও ভেবে আপনাকে পত্রখানা লিখছি। যারা হাসপাতালে আছেন, তারা বিদ্যুত বঞ্চিত। গেল সপ্তাহে একটি পত্রিকায় ছবি ছাপা হয়েছে , ডাক্তার টর্চ জ্বালিয়ে রোগী দেখছেন । বিদ্যুত সমস্যার কারণে মরণাপন্ন রোগীদের অক্সিজেন দেয়া যাচ্ছে না। পরীক্ষা চলছে । শিক্ষার্থীরা অসহ্য গরমে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা যুদ্ধ মোকাবেলার চেষ্টা করছে - তাদের কষ্ট, তাদের বেদনার কথা শোনার মতো কেউ নেই। আপনি এই ব্যাপারগুলো খুব ভালো বুঝবেন না। আপনি, আপনার উপদেষ্টাগণ, আপনার মন্ত্রী, আপনার সাংসদ , তাদের অসুখ হলে ছুটে যান সিঙ্গাপুরে। নিতান্তই সর্দিকাশির মতো টুকটাক চিকিৎসা তারা নেন স্কয়ার হাসপাতালে যেখানে কারেন্ট গেলে জেনারেটর চালু হয়, যেখানে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক, যেখানে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রটি নীরবে এলিট বাতাস বিলায়। মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশুনা করে পরীক্ষা দেয় - এমন কোন শিক্ষার্থী আপনার ত্রিসীমানায় নেই। লন্ডন, আমেরিকায় তো ইলেকট্রিসিটি কখনও যায়না! কাজেই আপনি এবং আপনারা আমাদের কষ্ট বুঝবেন - এটি আমরা আশা করি না। তবুও বলছি - আমরা ভীষণ কষ্টে আছি। বিদ্যুত, গ্যাস , পানি , দ্রব্যমূল্য --এই মুহুর্তে বিদ্যুতটাই বেশি ভোগাচ্ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রপ্রধান হচ্ছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যা খুশি - তাই করতে পারেন না। হোয়াইট হাউসের সামনে দাঁড়িয়ে কেউ ওবামার চৌদ্দগুষ্টি তুলে গালি দিলে - তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে গেলে একটি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আপনার সে বালাই নেই। বাংলাদেশের কোনও প্রধানন্ত্রীর সেই বালাই কোন কালেই ছিল না। চাইলে আপনি বিমানবন্দরের নাম নিমিষেই বদলে দিতে পারেন, কাজেই বিদ্যুত সমস্যার সমাধান করা আপনার কাছে নস্যি। আপনি এবং আপনার পারিষদবৃন্দ , আমাদের সমস্যা বুঝছেন না বলেই এটি সমাধানে কোনও বাস্তব উদ্যোগ নেই। বরঞ্চ টিভিতে দেখি, আপনার মন্ত্রী, মিনিস্টার , উপদেষ্টারা স্যুট পড়ে অফিস করছেন। যতক্ষণ আপনারা ক্ষমতায় থাকেন, ততক্ষণ আপনারা বাস করেন সম্পূর্ণ অন্য একটা জগতে। খোদ বেহেশতেও এত সুযোগসুবিধা এভাবে মুফতে পাওয়া যায় না। আপনি বিদ্যুত সমস্যা মোকাবেলায় বাস্তব উদ্যোগ নিন। আমরা কাজ দেখতে চাই ,কথা নয়। যেসব কথা আপনি কিংবা আপনারা বলেন ( বিগত সরকার দায়ী ইত্যাদি ) এগুলো শুনে শুনে আমাদের মুখস্থ হয়ে গেছে।
১. এই খরদাহে বিদ্যুত সমস্যা মোকাবেলায় প্রথমেই জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করুন এবং জাতীয় সকল ক্ষেত্রে কৃচ্ছতা কর্মসূচী শুরু করুন।
২. ঢাকার সমস্ত শপিংমল সাপ্তাহে তিনদিন বন্ধ রাখুন। কাপড়চোপড় কেনা কাটার চাইতে হাসপাতালের রোগী, অসংখ্য শিশুসহ নাগরিক ভোগান্তি অনেক বড় বিষয়। আপনি শপিংমল বন্ধ করলে শপিংমলের মালিকরা খেপবে - কিন্তু সুবিধাবঞ্চিত জনগণকে নিশ্চিত আপনার পাশে পাবেন।
৩. আপাতত সংসদ অধিবেশন মুলতুবি করুন। সংসদ অধিবেশন চালাতে প্রচুর বিদ্যুত খরচ যায়। মাসখানেক সংসদ অধিবেশন বন্ধ রাখলে গণতন্ত্র অক্কা পাবে না কিন্তু বিদ্যুত পানির এই অবস্থা চললে আমাদের পটল তুলতে বেশি সময় লাগবে না। ৪. স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে এক মাসের বিশেষ গ্রীষ্মকালীন ছুটি ঘোষণা করুন। বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে। রবীন্দ্রনাথের তোতাকাহিনী গল্পটির কথা মনে আছে আপনার ? গরমে স্কুল কলেজ করতে গিয়ে কত ছেলেমেয়ে অসুস্থ হচ্ছে - একবার খবর নিয়ে দেখুন। এক মাস স্কুল বন্ধ রাখলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চাঙ্গে উঠবে এমনটা ভাবার মতো আবার্চীন আপনি নিশ্চয়ই নন। সজীব ওয়াজেদ জয় বিদেশে পড়াশুনা করেছে - প্রয়োজনে উনার সাথে পরামর্শ করলেও আপনি নিশ্চিত হবেন , বৈরী পরিবেশে একমাস স্কুল বন্ধ রাখলে বিদ্যাবুদ্ধির কোনও ঘাটতি হয়না।
৫. চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসহ সকল বিনোদনকেন্দ্রে আলোকসজ্জা, সঙ্গীতানুষ্ঠান, জলসা -ইত্যদি আগামী একমাসের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করুন। সমাজের গুটিকয় সুবিধাবাদী এলিট শ্রেনীর লোকজনের বিনোদনের জন্য এক ওয়াটও বিদ্যুত যাতে অপচয় না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখুন। আপনি নিজেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা , সভা , সংবর্ধনা -ইত্যাদি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। আপনার একটি অনুষ্ঠানে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত দিতে গিয়ে হয়তো হাসপাতালের অসংখ্য রোগী গরমে কষ্ট করছে। তাদের কথা ভাবুন। এই রকম আরও অসংখ্য উদ্যোগ আছে - যেগুলো নিলে বিদ্যুতের উপর চাপ অনেকাংশেই কমে যাবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার বাসায় আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি - একদিন দশ মিনিটের জন্য হলেও আসুন , দেখে যান গরমে আমার বাচ্চা দুটি কী রকম কষ্ট করছে ... আপনিও একজন মা, আপনি বুঝবেন। আমার স্ত্রী আপনাকে লেবুর সরবত দিয়ে আপ্যায়িত করবে। সময় না পেলে আসার দরকার নেই- বরং আপনার অফিসের একটু পাশে নাখালপাড়া এলাকায় পাঁচটি মিনিট কোনও এক কুটিরে বসে দেখুন কী কষ্টই না করছে বাংলাদেশের মানুষ ... এই কষ্ট তাদের প্রাপ্য না ... মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ...
দেশের খবর জানতে মানুষের খবর জানতে নিজের চোখে সবকিছু যাচাই করে দেখুন। বাংলাদেশে মানুষের অভাব নেই ... একটু কষ্ট করে প্রধানমন্ত্রীর ঘেরাটোপ ছেড়ে মিনিট খানেকের জন্য বাইরে আসুন ...নিজ চোখে দেখুন আমরা কীভাবে বেঁচে আছি ...
আর পত্রিকার পাশাপাশি ব্লগ পড়ুন, ব্লগে লিখুন, ভাবনা বিনিময় করুন দেশের মানুষের সাথে ... আপনিই না ডিজিটাল বাংলাদেশে কথা বলেন ... প্রায়ই ....

আন্দোলনের পটভূমি

২০০৪ সনে তদানন্তীন সরকার প্রশিকার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বৈদেশিক তহবিল অবমুক্তকরণ বন্ধ করে দেয়। এতে সংস্থার আর্থিক সংকট দেখা দেয়, এবং প্রশিকা পরিচালিত উন্নয়ন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। আর্থিক সংকটের কারণে প্রশিকার বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি ঐ সময়ে সারা বাংলদেশে  প্রশিকার প্রায় দুশো কর্মী-ব্যবস্থাপককে জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়।  তারপরও নিবেদিত র্কর্মী-ব্যবস্থাপকদের কঠোর পরিশ্রমে প্রশিকার অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধি করে তা দিয়ে সাফল্যের সাথে দারিদ্র্য বিমোচন তথা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে। বিগত একদশকে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কয়েক গুণ বেড়ে গেলেও ১৯৯৯ সালের পর প্রশিকার কর্মীদের বেতন স্কেল বাড়েনি। নিদারুন আর্থিক কষ্টের মধ্যেও সংস্থার কর্মী-ব্যবস্থাপকগণ স্বপ্ন দেখেছিলেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সরকার আসবে প্রশিকা আইনানুগভাবে তাদের সহায়তা পাবে। সংস্থার উন্নয়ন কার্যক্রম আবারও সম্পসারিত হবে। সেইসঙ্গে প্রশিকা বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনে আরো তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে সৰম হবে।

কিন্তু প্রশিকার গর্ভানিং বডির সাবেক চেয়ারম্যান কাজী ফারুক  আহম্মদের ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং হঠকারী সিদ্ধানেৱর ফলে সংস্থা গভীর সংকটে পড়ে। ক্ষমতার মোহে অন্ধ কাজী ফারুক   আহম্মদ রাষ্ট্রীয় ৰমতার অংশীদারিত্ব পাওয়ার লক্ষ্যে ২০০৮ সনে জরুরি  অবস্থার মধ্যে ‘ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন’ নামের একটি রাজনৈতিক দল গড়েন। এ দল গড়তে গিয়ে প্রকারন্তে তিনি সম্পূর্ণ একক সিদ্ধান্তে প্রশিকাকে ‘ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন’ -এ পরিণত করেন। প্রশিকার কর্মী-ব্যবস্থাপকদের তীব্র বিরোধিতার পরেও তাদেরকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে সেই রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে বাধ্য করেন।


عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: أَشْرَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أُطُمٍ مِنْ آطَامِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ هَلْ تَرَوْنَ مَا أَرَى قَالُوا لَا قَالَ فَإِنِّي لَأَرَى الْفِتَنَ تَقَعُ خِلَالَ بُيُوتِكُمْ كَوَقْعِ الْقَطْرِ . [رواه البخاري: 21/450 كباب الفتن, باب- قول النبي ويل للعرب]
ওসামা বিন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা মদীনার টিলাসমূহের মধ্যে কোন একটি টিলার উপর আরোহন করে বললেন: আমি যা দেখছি, তোমরা কি তা দেখছো? (সাহাবাগণ) বললেন: না। তিনি বললেন: আমি তোমাদের ঘরসমূহে ফেৎনা বৃষ্টির ফোঁটার ন্যায় পতিত হতে দেখছি। [বুখারী: ২১/৪৫০, কিতাবুল ফিতান, বাব- কাওলুন নবী ওয়াইলুন লিল আরব।

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بَعَّدَ اللَّهُ وَجْهَهُ عَنْ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا . [رواه البخاري: 2840، ومسلم: 1153، والترمذي والنسائي] আবূ সাঈদ আলখুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাআহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: “যে বান্দা আল্লাহর রাস্তায় একদিন মাত্র রোযা রাখবে সেই বান্দার চেহারাকে আল্লাহ্ (ঐ রোযার বিনিময়ে) জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের পথ পরিমাণ দূরত্বে রাখবেন।” [বুখারী: ২৮৪০, মুসলিম: ১১৫৩, তিরমিযী, নাসাঈ

عن سهل ابن سعد رضي الله عنه. قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: “إن في الجنة بابا يقال له الريان. يدخل منه الصائمون يوم القيامة. لا يدخل معهم أحد غيرهم. يقال: أين الصائمون ؟ فيدخلون منه. فإذا دخل آخرهم. أغلق فلم يدخل منه أحد”. [رواه البخاري: 1797 ومسلم: 1152 والنسائي والترمذي] সাহল বিন সা’দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “জান্নাতের এক প্রবেশদ্বার রয়েছে যার নাম ‘রাইয়্যান’। কেয়ামতের দিন ঐ দ্বার দিয়ে রোযাদারগণ প্রবেশ করবে। তারা ছাড়া তাদের সাথে আর কেউই ঐ দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে না। বলা হবে: ‘কোথায় রোযাদারগণ?’ সুতরাং তারা ঐ দরজা দিয়ে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে। অতঃপর যখন তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি প্রবেশ করবে, তখন সে দ্বার রুদ্ধ করা হবে। ফলে সে দ্বার দিয়ে আর কেউই প্রবেশ করতে পারবে না।” [বুখারী: ১৮৯৬, মুসলিম: ১১৫২, নাসাঈ, তিরমিযী

عن حذيفة رضي الله عنه قال: أنا سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: فتنة الرجل في أهله وماله وجاره، تكفرها الصلاة والصيام والصدقة .[رواه البخاري: 1895 ومسلم: 144] হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, “মানুষের পরিবার, ধন-সম্পদ ও প্রতিবেশীর ব্যাপারে ঘটিত বিভিন্ন ফিৎনা ও গোনাহের কাফ্ফারা হলো নামায, রোযা ও সদকাহ্।” [বুখারী: ১৮৯৫, মুসলিম: ১৪৪

وعن أَبي معبد المقداد بن الأسْود رضي الله عنه ، قَالَ : قُلْتُ لرسول الله صلى الله عليه وسلم : أرَأيْتَ إنْ لَقِيتُ رَجُلاً مِنَ الكُفَّارِ ، فَاقْتتَلْنَا ، فَضَرَبَ إحْدَى يَدَيَّ بِالسَّيْفِ ، فَقَطَعَها ، ثُمَّ لاذَ مِنِّي بِشَجَرَةٍ ، فَقَالَ : أسْلَمْتُ لِلهِ ، أأقْتُلُهُ يَا رَسُول الله بَعْدَ أنْ قَالَهَا ؟ فَقَالَ : (( لا تَقْتُلهُ )) فَقُلْتُ : يَا رَسُول الله ، قَطَعَ إحْدَى يَدَيَّ ، ثُمَّ قَالَ ذلِكَ بَعْدَ مَا قَطَعَهَا ؟! فَقَالَ : (( لا تَقتُلْهُ ، فإنْ قَتَلْتَهُ فَإنَّهُ بِمَنْزِلَتِكَ قَبْلَ أنْ تَقْتُلَهُ ، وَإنَّكَ بِمَنْزِلَتِهِ قَبْلَ أنْ يَقُولَ كَلِمَتَهُ التي قَالَ )) مُتَّفَقٌ عَلَيهِ . ومعنى (( أنه بمنـزلتك )) أي : معصوم الدم محكوم بإسلامه . ومعنى (( أنك بمنـزلته )) أي : مباح الدمِ بالقصاص لورثتهِ لا أنه بمنـزلته في الكفر ، والله أعلم . আবূ মাবাদ মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি কি বলেন যদি কোন কাফেরের সাথে আমার মোকাবেলা হয় এবং পারস্পরিক যুদ্ধে সে আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য একটি গাছের আড়ালে আশ্রয় নিয়ে বলে, আমি আল্লাহর জন্য ইসলাম গ্রহণ করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তার ঐ কথা বলার পর আমি কি তাকে হত্যা করব? তিনি বলেনঃ তাকে হত্যা করো না। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সে তো আমার দুই হাতের একটি কেটেছে, অতঃপর একথা বলেছে। তিনি বলেনঃ তাকে হত্যা করো না। কেননা তুমি যদি তাকে হত্যা করো, তাহলে তুমি তাকে হত্যা করার পূর্বে যে মর্যাদায় ছিলে, সে সেই মর্যাদায় পৌঁছে যাবে; আর যে কলেমা সে পাঠ করেছে, সেই কলেমা পাঠের পূর্বে সে যে স্তরে ছিল; তুমি(তাকে হত্যা করলে) সেই স্তরে নেমে যাবে। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। أنه بمنزلتك কথার অর্থ হলো: ইসলাম গ্রহণ করার কারণে সে ব্যক্তির রক্তপাত হারাম হয়ে গেছে। আর أنه بمنزلته কথার অর্থ হলো: তুমি তাকে হত্যা করার দরুন তার ওয়ারিসদের পক্ষ থেকে কিসাস স্বরূপ তোমার রক্ত প্রবাহিত করা তাদের জন্য বৈধ হয়ে যাবে। কিন্তু তুমি তার মত কাফের হয়ে যাবে না। আল্লাহই ভালো জানেন।

عَنْ ابْن عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم بِمَنْكِبِي، وَقَالَ: “كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّك غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ”. وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا يَقُولُ: إذَا أَمْسَيْتَ فَلَا تَنْتَظِرْ الصَّبَاحَ، وَإِذَا أَصْبَحْتَ فَلَا تَنْتَظِرْ الْمَسَاءَ، وَخُذْ مِنْ صِحَّتِك لِمَرَضِك، وَمِنْ حَيَاتِك لِمَوْتِك. [رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ رقم:6416] ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাঁধ ধরে বললেন:
দুনিয়াতে অপরিচিত অথবা ভ্রমণকারী মুসাফিরের মত হয়ে যাও। ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলতেন, সন্ধ্যা বেলা যখন তোমার সাধ্য হবে, তখন সকালের অপেক্ষা করো না। আর সকাল আসলে সন্ধ্যার অপেক্ষা করো না। অসুস্থতার পূর্বে সূস্থতার মূল্য অনুধাবন কর, আর মৃত্যুর জন্য জীবিত অবস্থায় সংগ্রহ করে নাও। [বুখারী: ৬৪১৬]

وعن ابن عمر رضي الله عنهما ، قَالَ : سمعت رَسُول الله، يقول: (( كُلُّكُمْ رَاعٍ ، وَكُلُّكُمْ مسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتهِ : الإمَامُ رَاعٍ وَمَسْؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ ، والرَّجُلُ رَاعٍ في أهْلِهِ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ ، وَالمَرْأةُ رَاعِيَةٌ في بيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْؤُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا ، وَالخَادِمُ رَاعٍ في مَالِ سَيِّدِهِ وَمَسؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ ، فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ )) مُتَّفَقٌ عَلَيهِ [رواه البخاري: 7/41 ( 5200 ) ، ومسلم 6/7 ( 1829 ) ( 20 )]. ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমার বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
“আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: তোমাদের প্রত্যেকেই রক্ষণাবেক্ষণকারী(বা দায়িত্বশীল) এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুরুষ তার পরিবার ও সংসারের জন্য দায়িত্বশীল এবং তাকে তার রক্ষণাবেক্ষণ ও দায়িত্বপালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। স্ত্রীলোক তার স্বামীর ঘরের রক্ষণাবেক্ষণকারিনী এবং তাকে সে সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। খাদেম তার মনিবের সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তাকে তার সে দায়িত্বপালন সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। অতএব তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।” [বুখারী: ৭/৪১(৫২০০) ও মুসলিম: ৬/৭(১৮২৯)]

عَنْ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ قَالَ أَتَيْنَا أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ فَشَكَوْنَا إِلَيْهِ مَا نَلْقَى مِنْ الْحَجَّاجِ فَقَالَ اصْبِرُوا فَإِنَّهُ لَا يَأْتِي عَلَيْكُمْ زَمَانٌ إِلَّا الَّذِي بَعْدَهُ شَرٌّ مِنْهُ حَتَّى تَلْقَوْا رَبَّكُمْ سَمِعْتُهُ مِنْ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [رواه البخاري: كبات الفتن, رقم الحديث من الشاملة (6541)] যুবাইর বিন ‘আদী (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
আমরা আনাস বিন মালেক (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর নিকট এসে হাজীদের থেকে আমরা যে কষ্ট পাই সে ব্যাপারে আমরা অভিযোগ করলাম। তখন তিনি বললেন: ধৈর্য ধর, তোমাদের সামনে এমন এক সময় আসবে যার বর্তমান দিনের চেয়ে পরবর্তী দিনটি খারাপ হবে, আর এ অবস্থায়ই তোমরা আল্লাহর সাথে মিলিত হবে। আমি এ কথাটি তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনেছি। [বুখারী: কিতাবুল ফিতান, বাব লাইয়াতি যামান ইল্লা আল্লাযী বা'দাহু সারুন মিনহু, মাকতাবাতুস শামেলাহ্ থেকে হাদীস নং- 6541]

  • «
  •  Start 
  •  Prev 
  •  1 
  •  2 
  •  Next 
  •  End 
  • »

ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রীর ‘শিক্ষা’ কাজে লাগাবে বিএনপি— প্রধান বিরোধী দলের এই মনোভাব সমর্থন করেন কি?

কিবোর্ড নির্বাচন করুন

ইনস্ক্রিপ্ট
ইউনিজয়
প্রভাত
ফনেটিক
ফনেটিক ইন্ট.
English

ব্যাবহারিক লগইন ফর্ম

কে অনলাইনে আছেন

আমাদের এখন 7 জন অতিথি অনলাইনে আছেন